Supreme Court : নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত শীর্ষ আদালতের, সপ্তাহে ২ দিন ভার্চুয়াল কোর্টে বসবে সুপ্রিম বেঞ্চ !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :-
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জ্বালানি বাঁচানোর ডাকে সাড়া দিয়ে বড় পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, সপ্তাহে দু’দিন ভার্চুয়াল শুনানি চালু হবে। পাশাপাশি হাইব্রিড মোডে কাজ, কারপুলিং ও ওয়ার্ক ফ্রম হোমের সুবিধা দেওয়া হবে কর্মীদের। জ্বালানি সংকটের আবহে সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক বলছেন আইনজীবী মহলের একাংশ।
কয়েকদিন আগেই জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশবাসীকে জ্বালানি খরচ কমানোর আবেদন জানান। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের পরামর্শও দেন তিনি। শুক্রবার সেই পথেই হাঁটার কথা ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাইব্রিড সিস্টেমে কাজ চলবে। এই তিনদিন আইনজীবী ও মামলাকারীরা চাইলে সশরীরে আদালতে হাজিরা দিতে পারবেন, আবার ভার্চুয়াল মাধ্যমেও শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন।
পশ্চিম এশিয়ার টালমাটাল পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ছে হু হু করে। তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের আমদানি খরচে। এনার্জি সেক্টরে তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ। এই অবস্থায় জ্বালানি সাশ্রয়ে একাধিক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আদালতে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে কারপুলিং ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমবে, বাঁচবে জ্বালানি।
শুধু তাই নয়, আদালতের প্রতিটি সেকশন এবং রেজিস্ট্রি ব্রাঞ্চের অর্ধেক কর্মীকে সপ্তাহে দু’দিন অফিসে না এসেও কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে, কর্মীদের ওয়ার্ক ফ্রম হোমের সুবিধা দেওয়া হলেও বিচারপ্রক্রিয়া বা প্রশাসনিক কাজে কোনওভাবেই ব্যাঘাত ঘটানো যাবে না। রোস্টার মেনে কাজ ভাগ করে দেওয়া হবে যাতে মামলার গতি ধরে রাখা যায়।
আইনজীবীদের একাংশ মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তে দু’দিক থেকে লাভ হবে। এক, আদালতের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ অনেকটা কমবে। দুই, দূরদূরান্তের মামলাকারী ও জুনিয়র আইনজীবীরা দিল্লি না এসেও ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন। এতে সময় ও অর্থ দুই-ই বাঁচবে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর আবেদনের পর কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক দফতর ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করেছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল দেশের সর্বোচ্চ আদালতও। সুপ্রিম কোর্টের হাইব্রিড শুনানি ও কারপুলিংয়ের সিদ্ধান্ত অন্যান্য হাইকোর্ট ও সরকারি দফতরকেও জ্বালানি সাশ্রয়ের পথ দেখাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
