মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেই আরজিকর নিয়ে বড় অ্যাকশন শুভেন্দুর! তদন্তের আওতায় মমতাও?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনেই রাইটার্স ও নবান্নের অলিন্দে বড়সড় রদবদল ঘটালেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেই আর জি করের অভয়া কাণ্ডের তদন্তে এক নজিরবিহীন ও বিরাট পদক্ষেপ নিলেন তিনি। কলকাতা পুলিশের তৎকালীন শীর্ষ পদে থাকা তিন হেভিওয়েট আইপিএস অফিসারকে সরাসরি সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুক্রবার নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত এক হাই-ভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা এই মামলার জল কোন দিকে ঘুরিয়েছিলেন, এবার তা চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে।
৩ আইপিএস সাসপেন্ড: তালিকায় বিনীত গোয়েল
তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে শুক্রবারই কলকাতা পুলিশের তৎকালীন তিন প্রভাবশালী আইপিএস আধিকারিককে সাসপেন্ড করার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই তালিকায় রয়েছেন:
-
বিনীত গোয়েল (তৎকালীন পুলিশ কমিশনার, বর্তমান এডিজি, আইবি)
-
ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় (তৎকালীন ডিসি, সেন্ট্রাল)
-
অভিষেক গুপ্তা (তৎকালীন ডিসি, নর্থ)
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, “যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই অফিসারদের পদে রেখে তদন্ত করলে স্বচ্ছতা থাকবে না। তাই তাঁদের সাসপেন্ড করেই তদন্ত শুরু করা হচ্ছে।”
“কার নির্দেশে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব?” তদন্তে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীও
ভোটের প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বাংলায় বিজেপি সরকার গড়লে অভয়া মামলার ফাইল নতুন করে খোলা হবে। সেই আশ্বাস পূরণ করে শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন:
“অভয়া কাণ্ডে নির্যাতিতার মায়ের তরফে সবচেয়ে বড় যে অভিযোগ সামনে এসেছিল, তা হলো তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত ২ পুলিশ অফিসার পরিবারকে টাকা দিতে চেয়েছিলেন। বলা হয়েছিল, রাজ্য সরকারের তরফে এই প্রস্তাব। এটা কারা বলেছিল? কেন বলেছিল? রাজ্য সরকারের কথায়, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে—সব খতিয়ে দেখা হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনো মন্ত্রীর কথায় তাঁরা এসব করেছিলেন কি না, তা জানতে ওই আইপিএসদের ফোনকল এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সব বের করা হবে।” শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলের ধারণা, প্রয়োজনে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এই তদন্তের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
টার্গেটে ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়: “মুখপাত্র না হয়েও রোজ রোজ কেন প্রেস মিট?”
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে আইপিএস ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে বিশেষভাবে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে শুভেন্দু বলেন:
“আর জি করের ঘটনার সময় রোজ রোজ সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর (ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়) মুখের ভাষা, শরীরী ভাষা যা ছিল, তা বাংলার পক্ষে খুব একটা সুখকর ছিল না। তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠতেই পারে। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি, সে সময় তিনি কলকাতা পুলিশের আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র ছিলেন না। কাগজে-কলমে তাঁকে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তাহলে কার নির্দেশে তিনি রোজ প্রেস মিট করতেন? তখনকার মুখ্যমন্ত্রী নাকি অন্য কোনো মন্ত্রীর নির্দেশে?”
প্রাথমিক তদন্তের অভিমুখ
নবান্ন সূত্রে খবর, নতুন সরকারের এই মেগা তদন্তে মূলত দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে:
-
ঘটনার পর পরিস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে ও সংবাদমাধ্যমকে ভুল তথ্য দেওয়া।
-
নির্যাতিতার শোকগ্রস্ত পরিবারকে তড়িঘড়ি টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করার চেষ্টার নেপথ্যে আসল ‘মাথা’ কে ছিল, তা খুঁজে বের করা।
মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ প্রমাণ করে দিল, অভয়া কাণ্ডের সুবিচারের ইস্যুটিকে হাতিয়ার করেই আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলারে আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে নতুন সরকার। এই তদন্ত আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে কী ঝড় তোলে, এখন সেটাই দেখার।
