২১ মে পশ্চিমাঞ্চলের ৫ জেলাকে নিয়ে প্রথম হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যেই পুরোদমে প্রশাসনিক কাজ শুরু করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে যখন রাজ্যে স্বচ্ছ প্রশাসনের বার্তা দিয়ে একের পর এক বড় পদক্ষেপ নিচ্ছেন, ঠিক তখনই এবার জেলাস্তরের উন্নয়নমূলক কাজের তদারকিতে প্রথম বড় বৈঠক ডাকলেন তিনি।
আগামী ২১ মে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ জেলার শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে এক মেগা বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলাগুলি হলো— পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং পূর্ব বর্ধমান। সময় এবং সরকারি খরচ বাঁচাতে এই পাঁচ জেলাকে একসঙ্গেই নবান্নে তলব করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
জেলা প্রশাসনে তৎপরতা, কাল থেকেই বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক
মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে সবুজ সংকেত আসতেই শুক্রবার থেকেই জেলা প্রশাসনের অলিন্দে তৎপরতা শুরু হয়ে গেছে। জেলাশাসকসহ উচ্চপদস্থ কর্তারা নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি বৈঠক শুরু করে দিয়েছেন।
উন্নয়নমূলক কাজের কোনো খামতি যাতে মুখ্যমন্ত্রীর সামনে প্রকাশ না পায়, তার জন্য শনিবার থেকেই এই পাঁচ জেলার নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা। বিধায়করা নিজ নিজ এলাকায় নতুন কী কী কাজের বা প্রকল্পের প্রস্তাব দিচ্ছেন, তার একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তালিকা তৈরি করে জেলাকর্তাদের ২১ মে-র বৈঠকে হাজির হতে বলা হয়েছে।
কী কী বিষয়ে রিপোর্ট তলব করেছেন মুখ্যমন্ত্রী?
মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় সূত্রে খবর, এই পাঁচ জেলায় বর্তমানে রাজ্য ও কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে কী কী সরকারি প্রকল্পের কাজ চলছে, তার সার্বিক খতিয়ান চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নজর দেওয়া হচ্ছে নিচের বিষয়গুলিতে:
-
কোন কোন প্রকল্পের কাজ বর্তমানে কী অবস্থায় রয়েছে?
-
কোন কাজগুলি প্রশাসনিক জটিলতা বা অন্য কোনো কারণে ধীরগতিতে চলছে?
-
আমজনতার কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কোনো বাধা রয়েছে কি না?
ধীরগতিতে চলা প্রকল্পগুলিকে দ্রুত শেষ করার জন্য অন-স্পট রূপরেখা তৈরি করে দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী, এমনটাই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
লক্ষ্য ২২ জুনের পূর্ণাঙ্গ বাজেট
এখনও মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ বিস্তার না হলেও, আগামী ২২ জুন নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই নবান্নের তরফে প্রতিটি সরকারি দপ্তরকে পরিকাঠামো খাতে বিশেষ জোর দিয়ে বাজেট প্রস্তুতি শুরু করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঠিক এই বাজেটের আবহেই পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলির আর্থিক ও পরিকাঠামো উন্নয়নের হালহকিকত বুঝে নিতে চাইছেন শুভেন্দু অধিকারী, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেই যেভাবে ফাইলবন্দি উন্নয়নকে সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জেলাস্তরে তদারকি শুরু করলেন শুভেন্দু অধিকারী, তাতে প্রশাসনের অন্দরে যে চরম শোরগোল পড়ে গেছে, তা বলাই বাহুল্য। ২১ মে-র এই প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক থেকে পশ্চিমাঞ্চলের জন্য নতুন কী কী উপহার বা কড়া বার্তা আসে, এখন সেটাই দেখার।
