আজকের দিনেভারত

UAE-তে এলপিজি-তেল চুক্তি মোদীর, বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য ভারতের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে দেশে পেট্রল-ডিজেলের জোগানে টান ও রান্নার গ্যাসের সঙ্কটের মধ্যে বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাঁচ দেশের সফরের প্রথম দিনে শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহী পৌঁছে জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতাপত্র সই করলেন তিনি। এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করা ও কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত বাড়াতে UAE-র সঙ্গে চুক্তি করেছে ভারত।

প্রসঙ্গত গত, রবিবার তেলঙ্গানার জনসভা থেকে পেট্রল-ডিজেল ব্যবহার কমানো, এক বছরের জন্য বিদেশ সফর ও সোনা কেনায় লাগাম টানার আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। জ্বালানি বাঁচাতে স্কুল-কলেজ, অফিসে ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালুর পরামর্শও দেন। এরপরই তেল সংস্থাগুলি পেট্রলের দাম লিটারে ৩ টাকা ও সিএনজি কেজিতে ২ টাকা বাড়ায়। এই আবহেই শুক্রবার আবু ধাবি সফর করেন মোদী। দুপুর ১২টা নাগাদ আবু ধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে প্রধানমন্ত্রীর বিমান। গার্ড অফ অনার দেওয়ার পর তিনি সরাসরি যান প্রেসিডেন্টের বাসভবনে। সেখানে UAE-র প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন মোদী। বৈঠকেই এলপিজি সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও ভারতে রান্নার গ্যাসের জোগান অব্যাহত রাখবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারক। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে এলপিজির মজুতে চাপ পড়েছে। যদিও কেন্দ্র জানিয়েছে, এখনও পর্যাপ্ত মজুত আছে। একইসঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ নিয়ে মউ সই করেছে দুই দেশ। যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক সঙ্কট বা হঠাৎ দাম বাড়লে যাতে জ্বালানির ঘাটতি না হয়, সেজন্য একসঙ্গে কাজ করবে ভারত ও UAE। ভবিষ্যতের ঝুঁকি সামলাতে তেল মজুত করতে নয়াদিল্লিকে সাহায্য করবে আবু ধাবি। জ্বালানি ছাড়াও গুজরাটের ভাদিনারায় শিপ রিপেয়ার ক্লাস্টার তৈরির চুক্তি হয়েছে। সেখানে বাণিজ্যিক, তেলবাহী ও মালবাহী জাহাজ সারানো হবে। পাশাপাশি সামরিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের রূপরেখাও চূড়ান্ত করেছে দুই দেশ।

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির মধ্যে UAE-র সঙ্গে এই চুক্তি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এলপিজি সঙ্কট, পেট্রল-ডিজেলের দাম ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা—তিন ক্ষেত্রেই মোদীর এই সফরকে গুরুত্ব দিচ্ছে কূটনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *