শহুরে দুর্গও রক্ষা পেল না: আবাসনের ভোটেও বিপর্যয় তৃণমূলের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: জেলায় পরাজয়ের পর এবার কলকাতার তথাকথিত ‘নিরাপদ’ দুর্গগুলিতেও ধস নামল তৃণমূল কংগ্রেসের। বিশেষ করে শহরের অভিজাত আবাসন এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভোটে বড়সড় ভাঙন শাসক শিবিরের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। সোমবার ভোট গণনার সময় যত এগিয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে যে বালিগঞ্জ থেকে শ্যামপুকুর— সর্বত্রই ঘাসফুল শিবিরের দাপট ফিকে হয়ে গিয়েছে।
আবাসনের ভোটে বিজেপির জয়জয়কার
এবার নির্বাচনে শহরের বড় আবাসনগুলির ভেতরেই বুথ করার ব্যবস্থা করেছিল কমিশন। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই সব অভিজাত আবাসনের সিংহভাগ ভোট এবার বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে।
-
রাসবিহারীর দুটি বড় আবাসন এবং উত্তর কলকাতার মানিকতলার আবাসনে তৈরি হওয়া বুথগুলিতে তৃণমূলের ফলাফল অত্যন্ত শোচনীয়।
-
শহুরে মধ্যবিত্ত ভোটাররা যে এবার শাসক দলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন, তার আগাম ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল।
কলকাতায় একের পর এক দুর্গে পতন
এদিন গণনার শুরু থেকেই কলকাতার একাধিক হেভিওয়েট কেন্দ্রে পিছিয়ে পড়তে থাকে তৃণমূল। একসময়ে যে কেন্দ্রগুলি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, সেগুলিও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে।
-
তালিকায় রয়েছে টালিগঞ্জ, রাসবিহারী, মানিকতলা, শ্যামপুকুর এবং কাশীপুর-বেলগাছিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র।
-
তৃণমূলের অন্দরে এই হার নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। একাংশের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ায় কলকাতা থেকে প্রচুর তৃণমূল সমর্থকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা পরাজয়ের অন্যতম কারণ।
মমতার আত্মবিশ্বাস ও রূঢ় বাস্তবতা
নির্বাচনের আগে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২২৬-এর বেশি আসনে জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। যদিও বিজেপি ও কমিশনের পক্ষ থেকে কারচুপির আশঙ্কা তিনি প্রকাশ করেছিলেন, তবুও বাংলার মানুষের ওপর তাঁর অগাধ ভরসা ছিল।
সোমবার সকালের প্রাথমিক ট্রেন্ডে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সংকেত মিললেও বেলা গড়াতেই ছবিটা বদলে যায়। বিজেপির ঝড়ে শেষমেশ পর্যুদস্ত হতে হলো তৃণমূলকে। শহরের শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত ভোটব্যাঙ্ক হাতছাড়া হওয়াকে শাসক শিবিরের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
