আজকের দিনেভারত

অভিষেক-নিগ্রহে দিল্লির দরবারে প্রতিবাদের ঝড়: পাশে ‘ইন্ডিয়া’ জোট, ‘পরিকল্পিত চক্রান্ত’ দাবি অভিষেকের,

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা ও নয়া দিল্লি: দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত দলীয় কর্মীর পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে যেভাবে ইটের আঘাত, ডিম-জুতো বৃষ্টি এবং শারীরিক হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে অভিষেককে, তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একজোট হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন—পর পর তিন হেভিওয়েট নেতার হস্তক্ষেপে বিষয়টি এবার জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ নিল।

মোদী সরকারকে কাঠগড়ায় তুললেন রাহুল, অখিলেশ ও হেমন্ত:

শনিবারের ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (টুইটার) সরব হন বিরোধী নেতারা।

  • রাহুল গান্ধী: এই হামলাকে ‘বিজেপির বদলার রাজনীতির ঘৃণ্য রূপ’ বলে আখ্যা দিয়ে রাহুল লেখেন, “একজন নির্বাচিত সাংসদের ওপর হামলা মানে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনও হিংসার কারণ হতে পারে না।”

  • অখিলেশ যাদব: বাংলার বিজেপি সরকারকে ‘অরাজক’ তকমা দিয়ে অখিলেশ প্রশ্ন তোলেন, “এত সংবেদনশীল পরিবেশেও কেন পুলিশের কোনো ব্যবস্থা ছিল না? বিজেপি ঘৃণা ও হিংসার রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না।”

  • হেমন্ত সোরেন: হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গণতন্ত্রে ভীতিপ্রদর্শন বা বলপ্রয়োগের কোনো স্থান নেই। বিরোধের জবাব যুক্তি ও জনমতের মাধ্যমেই দেওয়া উচিত।”

‘নিষ্ক্রিয়তা কোনো অবহেলা নয়, পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্ত’: পাল্টা তোপ অভিষেকের

জাতীয় নেতাদের এই অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে দীর্ঘ ও ঝাঁঝালো পাল্টা জবাব দিয়েছেন অভিষেক। এই হামলাকে কোনো সাধারণ শান্তিশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তার গাফিলতি বলতে নারাজ তিনি। সরাসরি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী’ ও ‘কেন্দ্র-পৃষ্ঠপোষিত’ চক্রান্তের কাঠগড়ায় তুলে অভিষেক লেখেন:

১) নিরাপত্তা প্রত্যাহার ও সচেতন নিষ্ক্রিয়তা: “স্পষ্ট সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও একজন বিরোধী সাংসদের নিরাপত্তা বলয় প্রত্যাহার করে নেওয়া এবং সশস্ত্র গুন্ডাদের অবাধে তাণ্ডব চালানোর ছাড়পত্র দেওয়া এক বিরক্তিকর সত্য প্রকাশ করে। এটি কোনো অবহেলা ছিল না, এটি ছিল দায়িত্ব এড়ানোর এক সচেতন প্রচেষ্টা, যা এই পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক হিংসার পথ প্রশস্ত করেছে।”

২) প্রশ্ন তুললেই টার্গেট: “আজকের বিজেপির আসল চেহারা হলো—তাদের পাশে দাঁড়ালে আপনি দেশপ্রেমিক, আর প্রশ্ন তুললেই আপনি তাদের টার্গেট! তবে নিজের নীতি বিসর্জন দিয়ে আরামদায়ক জীবন কাটানোর চেয়ে, গণতন্ত্র রক্ষা করতে গিয়ে এমন হুমকির মুখোমুখি হওয়া অনেক ভালো।”

৩) ভাঙবে না মনোবল: “যারা ভাবছেন হিংসা ছড়িয়ে আমাদের মনোবল ভেঙে দেওয়া যাবে, তারা ভুল ভাবছেন। ‘ইন্ডিয়া’ জোট সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ। ভয়, ঘৃণা ও হিংসার রাজনীতিকে পরাস্ত করতে মানুষের জন্য আমাদের এই লড়াই জারি থাকবে।”

জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ:

সোনারপুরের এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যে ভিডিও ফুটেজ দেখে স্থানীয় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে কলকাতার উপকণ্ঠে ঘটা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লির দরবারে রাহুল-অখিলেশ-হেমন্ত এবং অভিষেকের এই পারস্পরিক রাজনৈতিক সংহতি পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতেও এক নতুন মাত্রা যোগ করল। আসন্ন লোকসভা অধিবেশনে এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে বিরোধী জোট যে কেন্দ্রের মোদী সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে চলেছে, এই টুইট-যুদ্ধ তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *