Security-hawker eviction : বিধানসভায় মমতার নিরাপত্তা ও হকার উচ্ছেদ নিয়ে ‘সদর্থক’ আলোচনা !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে এক নজিরবিহীন মুহূর্ত! বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন মমতাপন্থী পাঁচ শীর্ষ তৃণমূল নেতা ও বিধায়ক। এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র, অশোক দেব, আবদুর রহিম বক্সি এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা প্রত্যাহার, বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের ঘর বরাদ্দ এবং সাম্প্রতিক হকার উচ্ছেদ ইস্যু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।
মূল তরজা মমতার নিরাপত্তা নিয়ে:
২০ বছরের সঙ্গীদের ফেরানোর আর্জি।
সময় যত এগোচ্ছে, রাজনৈতিকভাবে ততই কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগেই তাঁর বাড়ির সামনের বিশেষ নিরাপত্তা ও ব্যারিকেড সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তৃণমূল নেতাদের দাবি, বুধবার রাতে কালীঘাটের বাড়ি থেকে লালবাজারের নিরাপত্তারক্ষীদেরও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। যার মধ্যে ছিলেন মমতার প্রায় ২০ বছরের সঙ্গী তথা অত্যন্ত বিশ্বস্ত দুই ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী স্বরূপ গোস্বামী ও কুসুম কুমার দ্বিবেদী। তাঁদের পরিবর্তে ৩ জন নতুন রক্ষীকে পাঠানো হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাত থেকেই কালীঘাটে মমতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তৃণমূল কর্মীরা। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’র অভিযোগ তোলে ঘাসফুল শিবির।
আজ মূলত এই পিএসও পরিবর্তনের ইস্যু নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হন কুণাল-মদনরা। তাঁদের আর্জি, দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা নেত্রীর সঙ্গে রয়েছেন, সেই পুরনো রক্ষীদেরই যেন বহাল রাখা হয়। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন কাউকেও চাইছেন না। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিষয়টি ভেবে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
নবান্ন ও দিলীপ ঘোষের পাল্টা যুক্তি
নিরাপত্তা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে নবান্নের স্পষ্ট বার্তা, নিয়ম অনুযায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও ‘জেড প্লাস’ (Z+) নিরাপত্তাই পাচ্ছেন, অর্থাৎ প্রায় ৫০ জন তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। তবে দুই নির্দিষ্ট পিএসও-র জন্য মমতার এই দাবিকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মানা সম্ভব নয়, কারণ ডিউটি রস্টার পরিবর্তনশীল।
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “উনি কোর্ট মানেন না, নিয়ম মানেন না। নিজে যখন ক্ষমতায় ছিলেন, সকলকে ইচ্ছেমতো বদলি করেছেন। এখন মুখ্যমন্ত্রী কী করবেন তা তাঁর সিদ্ধান্ত। ওঁর এত সমস্যা হলে উনি বাংলাদেশে চলে যান।”
আলোচনায় হকার উচ্ছেদ ও বিধানসভার ঘর ইস্যু
মমতার নিরাপত্তার পাশাপাশি রাজ্যের সাম্প্রতিক হকার উচ্ছেদ অভিযান নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দরবার করেন বিধায়করা। রাতারাতি এত মানুষকে ‘বেকার’ করে দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁরা দাবি করেন—আগে পুনর্বাসন দিতে হবে, তারপর উচ্ছেদ। একই সঙ্গে বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের বসার জন্য ঘর খুলে দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।
বৈঠক শেষে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা অত্যন্ত সদর্থক হয়েছে। তিনি বলেন, “বিধানসভায় আমাদের বসার ঘর ও বলার সময় নিয়ে কথা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে আমরা বলার সময় পাব এবং আলাদা ঘরের ব্যবস্থাও করা হবে।”
এখন দেখার, এই ‘সদর্থক’ আলোচনার পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী বিতর্ক কোন মোড় নেয়।
