আজকের দিনেতিলোত্তমা

এবার নজরে সব্যসাচী দত্ত: রাজারহাটের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে ম্যারাথন তল্লাশি, উদ্ধার রাশি রাশি সোনা কেনার রসিদ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর এবার তৃণমূল নেতা তথা বিধাননগর পুরসভার চেয়ারপার্সন সব্যসাচী দত্তের বিপুল সম্পত্তির খোঁজে তল্লাশি শুরু করল পুলিশ। রবিবার সল্টলেক ও রাজারহাটের বিভিন্ন ঠিকানায় সব্যসাচীকে সঙ্গে নিয়েই ম্যারাথন অভিযান চালায় বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। আর এই তল্লাশিতেই তাঁর রাজারহাটের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে রাশি রাশি সোনা কেনার রসিদ ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি। এই বিপুল সম্পত্তির উৎস কী, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

​ম্যারাথন তল্লাশি ও ক্ষোভের মুখে সব্যসাচী

​তদন্তের স্বার্থে রবিবার বিকেল থেকেই কোমর বেঁধে ময়দানে নামে পুলিশ প্রশাসন। ​প্রথমে সব্যসাচী দত্তকে সঙ্গে নিয়ে বিধাননগর পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর নিজস্ব অফিসে অভিযানে যান তদন্তকারীরা। ​অফিসের অদূরে একটি স্থানীয় ক্লাবেও তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে কিছু সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর। এই অভিযানের মাঝেই রবিবাসরীয় বিকেলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়েন একসময়ের এই দাপুটে নেতা, এমনকি তাঁর দিকে ডিম ছুড়ে মারা হয় বলেও জানা গেছে। ​এরপর বিকেল চারটে নাগাদ সব্যসাচীকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজারহাটের একটি বিলাসবহুল আবাসনে, যেখানে তাঁর দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। সেখানকার ১৩ তলার ফ্ল্যাটে দীর্ঘক্ষণ জেরা ও তল্লাশি চালানোর পরই বিপুল পরিমাণ সোনা কেনার রসিদ ও নথিপত্র হাতে পান তদন্তকারীরা।

​ব্যবসায়ীকে হুমকি ও গ্রেফতারির পটভূমি

​গত ৯ জুন গভীর রাতে রাজারহাটের রাইগাছি এলাকার এক অভিজাত আবাসন থেকে পুলিশ হাতেনাতে গ্রেফতার করে সব্যসাচী দত্তকে। সম্প্রতি সল্টলেকের এক ব্যবসায়ী বিধাননগর কমিশনারেটে এই প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে তোলাবাজি এবং দিনের পর দিন হুমকি দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন। ওই ব্যবসায়ীর দাবি ছিল, বিভিন্ন সময়ে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার জন্য তাঁর ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতেন সব্যসাচী। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নেমে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।

দলবদলু রাজনীতি ও নির্বাচনী ব্যর্থতা

​২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্রে তৃণমূলের দাপুটে বিধায়ক ছিলেন সব্যসাচী দত্ত। ২০১৯ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিধাননগর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে লড়েন, যদিও তৃণমূলের সুজিত বসুর কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হন। ​নির্বাচনের পরেই ফের তৃণমূলে ‘কামব্যাক’ করেন তিনি। ২০২২ সালে পুরভোটে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জিতে বিধাননগর পুরবোর্ডের চেয়ারপার্সন হন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল তাঁকে বারাসত কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করলেও রাজ্যজুড়ে বইতে থাকা ‘গেরুয়া ঝড়ের’ সামনে তিনি টিকতে পারেননি। ভোটে হারলেও বর্তমানে তিনি বারাসত সংসদীয় জেলার চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন।

​একসময়ের সেই ‘ডাকাবুকো’ নেতার এই পরিণতি এবং ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল সম্পত্তির খতিয়ান ঘিরে এই মুহূর্তে বিধাননগর ও রাজারহাট এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *