হাসপাতালের গেটেই প্রাণ গেল পথচারীর
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- সোমবার ভোরে জোকা ইএসআই হাসপাতালে ভর্তি এক আত্মীয়কে দেখতে গিয়েছিলেন অরূপ নামে এক ব্যক্তি। কিন্তু হাসপাতালে ঢোকার মুখেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। অভিযোগ, বেপরোয়া গতির একটি গাড়ি তাঁকে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে ভিতরে নিয়ে যান, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত অরূপবাবুর বাড়ি মহেশতলা থানার আশুতি এলাকায়। প্রতিদিনের মতো এদিনও ভোরে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন তিনি। হাঁটতে হাঁটতেই হাসপাতালে আসেন ভর্তি আত্মীয়কে দেখতে। হাসপাতাল চত্বর হওয়ায় ওই এলাকায় ধীরে গাড়ি চালানোর নির্দেশ স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে রাস্তার ধারে। তা সত্ত্বেও কীভাবে এমন দ্রুতগতির গাড়ি সেখানে ঢুকে পড়ল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ঘটনার পরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে জোকা–ঠাকুরপুকুর এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ধাক্কা মেরেই গাড়িটি পালিয়ে যায়। গাড়ির গতি এতটাই বেশি ছিল যে নম্বর প্লেট পড়ে ওঠার সুযোগও মেলেনি।
এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে ঠাকুরপুকুর থানার পুলিশ। হাসপাতালের সামনে এবং আশপাশের রাস্তায় লাগানো একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের বক্তব্য, ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গাড়ির দিক ও গতিপথ চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। পলাতক চালককে ধরতে জোরদার তল্লাশি চলছে।
এদিকে মহেশতলার আশুতি গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রতিবেশীদের কথায়, অরূপবাবু ছিলেন শান্ত, নিরীহ মানুষ। বহু বছর ধরে ভোরে হাঁটতে বেরোনোর অভ্যাস ছিল তাঁর। হাসপাতালে ভর্তি আত্মীয়কে দেখতে গিয়ে এমন পরিণতি হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত চালককে ধরতে সব রকম পদক্ষেপ করা হচ্ছে। দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগের দিন রবিবার ভোরেও ঠাকুরপুকুর এলাকায় আরও একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। পূর্বপাড়া হাইস্কুলের কাছে চারমাথা মোড়ে একটি লরি একটি বাইককে পিষে দেয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই ডাক্তারি পড়ুয়ার। সেই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শিউরে উঠছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরপর দুর্ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেমস লং সরণীতে ঠাকুরপুকুর থেকে শীলপাড়া পর্যন্ত অংশে দিনের বেলাতেও পর্যাপ্ত ট্রাফিক নজরদারি থাকে না। বিশেষ করে বাইক চালকেরা প্রায়ই সিগন্যাল অমান্য করেন। ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। তাঁদের আশঙ্কা, দিনে যদি এই অবস্থা হয়, তবে রাতের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। প্রাতঃভ্রমণে বেরোনো সাধারণ মানুষও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।
