কাটমানি ফেরত! পলাতক তৃণমূল নেতার স্ত্রী জনসমক্ষে ফিরিয়ে দিলেন সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, ফলতাঃ রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই ফলতার একদা দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা জাহাঙ্গীরের ‘সেনাপতি’ গুরুপদ মণ্ডল পলাতক। কিন্তু রেহাই মেলেনি গণরোষ থেকে। গ্রামবাসীদের লাগাতার চাপ ও থানার অভিযোগের মুখে পড়ে, শেষ পর্যন্ত নিজের স্ত্রীর হাত দিয়ে সাড়ে ৮ লক্ষ টাকার কাটমানি ফেরত দিতে বাধ্য হলেন বেলসিংহা অঞ্চলের এই স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’ রাজের নেতা। প্রকাশ্য দিবালোকে গ্রামবাসীদের হাতে এই বিপুল টাকা তুলে দেওয়া হয়। তৃণমূল আমলে জবরদস্তিমূলক খোয়ানো টাকা ফেরত পেয়ে খুশি এলাকার বাসিন্দারা।
আবাস যোজনা থেকে আমফান: সর্বত্রই ছিল কাটমানির থাবা
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফলতার একদা দাপুটে নেতা জাহাঙ্গীর খানের নির্দেশে বেলসিংহা অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি গুরুপদ মণ্ডল এলাকায় কোটি কোটি টাকার কাটমানি রাজ চালাতেন। অভিযোগ, শুধুমাত্র ১৮৩ নম্বর বুথ থেকেই গ্রামবাসীদের ভয় দেখিয়ে ২৫ লক্ষ টাকা কাটমানি তুলেছিলেন এই গুরুপদ।
সরকার যেখানে আবাস যোজনায় গরিব মানুষকে ঘর তৈরির জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেয়, সেখানে এই গুরুপদ মণ্ডল মাথা পিছু ৬০ হাজার, ৪০ হাজার, ৩০ হাজার বা ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আত্মসাৎ করেছিলেন। এমনকী বিধ্বংসী ‘আমফান’ ঘূর্ণিঝড়ে ঘর ভাঙা দুর্গত মানুষদের থেকেও ২০ হাজার টাকা করে কাটমানি নেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
পালাবদলের পর নেতার পলায়ন, ঘরছাড়াদের প্রত্যাবর্তন
রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে ফলতায়। গা ঢাকা দেন অঞ্চল সভাপতি গুরুপদ মণ্ডল। শুধু তিনি নন, তাঁর সঙ্গে পলাতক বেলসিংহা ২ নম্বর অঞ্চলের তৃণমূল প্রধান কাকলি মালিও। অন্যদিকে, তৃণমূল জমানায় স্রেফ বিজেপি করার ‘অপরাধে’ দীর্ঘদিন যাঁরা এলাকাছাড়া ছিলেন, সেইসব ঘরছাড়া মানুষরা বর্তমানে ঘরে ফিরে আসেন। এলাকায় ফিরেই তাঁরা আর চুপ করে থাকেননি। সমস্ত গ্রামবাসীদের একজোট করে কাটমানি আদায়ের দাবিতে এবং গুরুপদ মণ্ডলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা।
জনসমক্ষে স্ত্রীর হাত দিয়ে টাকা ফেরত
থানায় অভিযোগ দায়ের হতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। আইনি জটিলতা এবং গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়ার ভয়ে শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার করে পলাতক নেতার পরিবার। এরপরই গুরুপদ মণ্ডলের স্ত্রী সুচিত্রা মণ্ডল এবং দুই অনুগামী— সহদেব মালিক ও দীপঙ্কর মালিককে সামনে পাঠিয়ে দেন। তাঁরা এলাকায় উপস্থিত হয়ে গ্রামবাসীদের সামনেই প্রায় সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা গুনে গুনে ফেরত দেন।
একদা যে নেতার ভয়ে এলাকা কাঁপত, তাঁরই পরিবারের হাত থেকে নিজেদের হকের টাকা ফেরত পেয়ে ফুরফুরে মেজাজে ফলতার বাসিন্দারা। তবে সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়া হলেও, বাকি কাটমানির টাকা কবে ফিরবে এবং পলাতক এই নেতাদের পুলিশ কবে নাগাদ গ্রেপ্তার করবে, তা নিয়ে এখনও এলাকায় গুঞ্জন তুঙ্গে।
