১৩৬ বছরের পুরনো ‘বাঁকড়া মসজিদ’ সরছে দমদম বিমানবন্দর থেকে!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ অবশেষে দীর্ঘ কয়েক দশকের জল্পনার অবসান। দমদম বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ এবং হাই-সিকিউরিটি জোনের নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দর চত্বর থেকে সরানো হচ্ছে ১৩৬ বছরের প্রাচীন গৌরীপুর জামে মসজিদ, যা স্থানীয় মহলে ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামে পরিচিত। আজ, শনিবার থেকেই বিমানবন্দরের ভেতর দিয়ে এই মসজিদে ঢোকার সমস্ত এন্ট্রি পাস অফিশিয়ালি বন্ধ করে দেওয়া হলো। সেই সঙ্গে আজ থেকে মসজিদে নমাজ পড়াও সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতে গোটা এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী।
কেন এই ঐতিহাসিক মসজিদ সরানোর সিদ্ধান্ত?
দমদম বিমানবন্দরে দুটি রানওয়ে রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান রানওয়েটি দিয়ে নিয়মিত বিমান ওঠানামা করলেও, দ্বিতীয় (ছোট) রানওয়েটির একদম ঢিলছোড়া দূরত্বে অবস্থিত এই বাঁকড়া মসজিদ। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, প্রধান রানওয়ে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকলে বড় বিমান ওঠানামার ক্ষেত্রে এই দ্বিতীয় রানওয়েটি ব্যবহার করতে গিয়ে মসজিদের কারণে চরম ঝুঁকি তৈরি হতো। শুধু তাই নয়, এই মসজিদের অবস্থানের জন্য বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কাজও বহু বছর ধরে থমকে ছিল।
নিরাপত্তার দিক থেকেও বড়সড় প্রশ্ন উঠছিল। এতদিন বিরাটি সংলগ্ন বাঁকড়া এলাকার উল্টোদিকের একটি গেট দিয়ে সাধারণ মানুষ পরিচয়পত্র দেখিয়ে বিমানবন্দরে প্রবেশ করতেন এবং বিমানবন্দরের ভেতরের প্রায় আড়াই কিলোমিটার স্পর্শকাতর রাস্তা পেরিয়ে মসজিদে পৌঁছাতেন। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার খাতিরেই অবশেষে এই মসজিদ স্থানান্তরের চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হলো।
ময়দানে বিধায়ক, উসকানিতে কান না দেওয়ার আর্জি
শনিবার সকালে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলতে এলাকায় উপস্থিত হন স্থানীয় বিধায়ক সৌরভ শিকদার। সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলোচনার পর বিধায়ক সংবাদমাধ্যমকে জানান, “নমাজ পড়তে আসা অধিকাংশ মানুষই দেশের এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদক্ষেপে রাজি হয়েছেন।” এর পাশাপাশি এই স্পর্শকাতর বিষয়টিকে কেন্দ্র করে যাতে কেউ কোনওরকম রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক প্ররোচনা ছড়াতে না পারে, তার জন্য স্থানীয়দের বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন বিধায়ক।
জেলাশাসকের বৈঠক ও মসজিদ কমিটির অবস্থান
এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া হঠাৎ করে হয়নি। এর আগে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের দফতরে বিধায়ক এবং মসজিদ কমিটির সদস্যদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। তার ঠিক পরপরই একটি বিশেষ দল মসজিদটি পরিদর্শন করে এবং বিমানবন্দর নিরাপত্তা কমিটির সঙ্গেও বৈঠক করা হয়। সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ইদের পরেই এই ১৩৬ বছরের পুরনো মসজিদ নিয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ করা হবে।
ইতিমধ্যেই মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে ইতিবাচক বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, “আমরা চাই না আমাদের কারণে বিমানবন্দরের কোনও ক্ষতি হোক বা দেশের সুরক্ষায় বিঘ্ন ঘটুক।” বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ অবশ্য মসজিদ কমিটিকে বিমানবন্দরের বাইরে আরও বড় জায়গা জুড়ে একটি নতুন মসজিদ তৈরি করে দেওয়ার লিখিত প্রস্তাব দিয়েছে। আপাতত ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদ স্থানান্তরের প্রাথমিক প্রক্রিয়া আজ থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়ে গেল।
