রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য, দিল্লির ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করল বিদেশমন্ত্রক
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, জাতীয় ডেস্ক: বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ‘তৈলধমনী’ তথা পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে ইরানের আগ্রাসী হামলা এবং তাতে এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় এবার কড়া পদক্ষেপ নিল ভারত সরকার। তেহরানের এই চরম প্ররোচনামূলক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং এর জবাব চাইতে ভারতে নিযুক্ত ইরানের ডেপুটি চিফ অফ মিশন মহম্মদ জাভেদ হোসেইনিকে মঙ্গলবার জরুরি ভিত্তিতে তলব করেছে কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রক। ঠিক কী কারণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হলো, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হবে ইরানের কাছে।
ওমান উপকূলে ইরানের জোড়া হামলা, মৃত ১, আশঙ্কাজনক ৪
সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর (UAE) প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে ‘মোম্বাসা’ এবং ‘আল বাহিয়া’ নামে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় ইরান।
-
হতাহত: এই ভয়াবহ হামলায় মোট ৮ জন নাবিক আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ৬ জনই ভারতীয়।
-
মৃত্যু: ‘মোম্বাসা’ নামক জাহাজে কর্মরত এক ভারতীয় নাবিকের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে।
-
আশঙ্কাজনক: আহতদের মধ্যে ৪ জন ভারতীয় নাবিকের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে আবু ধাবি।
ইতিমধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর তরফে এই হামলার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও ইরানকে ‘পাল্টা মারের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে তারা।
ট্রাম্পের ‘২০% শুল্ক’ বনাম ইরানের পালটা আঘাত: ফুঁসছে মধ্যপ্রাচ্য
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান এই সংঘাতের নেপথ্যে রয়েছে আমেরিকা ও ইরানের পারষ্পরিক চরম শত্রুতা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা করেছিলেন যে, আমেরিকা ফের হরমুজ প্রণালীতে ইরানি জাহাজের ওপর কড়া অবরোধ শুরু করছে। একই সঙ্গে তিনি নির্দেশ দেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের বিনিময়ে অন্যান্য দেশের জাহাজের ওপরেও ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
আমেরিকার এই অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের জবাবে পালটা আগ্রাসী নীতি নেয় ইরান। তারা বাহরিন, জর্ডান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর দুটি তেল ট্যাঙ্কারকে সরাসরি নিশানা করে, যার জেরেই এই রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা। এদিকে এই ঘটনার পরেই মঙ্গলবার ভোরে ইরানের ওপর নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। এই নিয়ে টানা তিন দিন ইরানের ওপর মার্কিন বোমাবর্ষণ চলল।
সংঘাতের বলি ১১ ভারতীয়, উদ্বেগে দিল্লি
রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে এ পর্যন্ত মোট ১১ জন নিরীহ ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও বিভিন্ন জাহাজ ও ট্যাঙ্কারে হামলার পর বেশ কয়েকজন ভারতীয় নাবিককে উদ্ধারও করা সম্ভব হয়েছে।
বিগত দিনের ক্ষত: উল্লেখ্য, গত মাসেই পালাউ-এর পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার ‘এমটি সেট্টেবেলো’র ওপর মার্কিন হামলায় ৩ জন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছিলেন।
একদিকে মার্কিন হামলা, অন্যদিকে ইরানের পালটা প্রতিশোধ— এই দুই মহাশক্তির লড়াইয়ের মাঝে পড়ে বারবার ভারতীয় নাবিকদের প্রাণ যাওয়ায় সাউথ ব্লকের উদ্বেগ আকাশ ছুঁয়েছে। ইরানি কূটনীতিককে তলব করে দিল্লি এবার অত্যন্ত কড়া বার্তা দিতে চলেছে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
