আমিরের তৃতীয় বিয়ে নিয়ে তোলপাড়! ‘লাভ জেহাদ’-এর অভিযোগে সরব নেতা-মন্ত্রীরা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,বিনোদন ডেস্ক:- বলিউডের ‘মিস্টার পারফেক্টশনিস্ট’ আমির খানের তৃতীয় বিয়ে নিয়ে এই মুহূর্তে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। ষাটোর্ধ্ব আমিরের নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে একের পর এক আক্রমণ ধেয়ে আসছে রাজনৈতিক মহল থেকে। একের পর এক হিন্দু নারীকে বিয়ে করার প্রসঙ্গ টেনে আমিরের বিরুদ্ধে ‘লাভ জেহাদ’-এর অভিযোগ তুলেছেন মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নীতেশ রানে এবং শিবসেনা নেতা সঞ্জয় শিরসাত। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে বিহারে অভিনেতার কুশপুতুল পর্যন্ত পোড়ানো হয়েছে।
‘লাভ জেহাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর?’ প্রশ্ন তুললেন নীতেশ রানে
মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী তথা বিজেপি বিধায়ক নীতেশ রানে শিরডিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আমির খানের তৃতীয় বিয়ে নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দেন। হিন্দু সমাজকে এই বিষয়ে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন:
“যখন সেলিব্রিটিরা তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেন, তখন হিন্দু সমাজের এ বিষয়ে চিন্তা করা উচিত। লাভ জেহাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর কে? আমির খান সেই ভূমিকায় চলে যাচ্ছেন না তো? যে সকল হিন্দু যুবক তাঁর সিনেমা দেখেন, তাঁদেরও এমন অভিনেতাদের তোল্লাই দেওয়ার আগে একটু ভেবে দেখা উচিত।”
নীতেশ রানে আরও দাবি করেন, আমিরের এই তৃতীয় বিয়েকে ‘লাভ জেহাদ’-এর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে জোর আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।
সুর চড়ালেন শিবসেনা নেতা সঞ্জয় শিরসাতও
নীতেশ রানের এই আক্রমণাত্মক মন্তব্যকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন শিবসেনা নেতা সঞ্জয় শিরসাত। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি দাবি করেন, একজন জনপ্রিয় তারকার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত সাধারণ অনুরাগী তথা সমাজের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। সঞ্জয়ের বক্তব্য:
-
বারবার বিয়ে কী বার্তা দেয়? আমিরের তিনটি বিয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “একবার নয়, দু’বার নয়, তিনবার বিয়ে! মানুষ তাঁর থেকে কী শিক্ষা পাচ্ছেন?”
-
হৃদয়ে স্থান পাবেন না: সঞ্জয় শিরসাত কড়া সুরে যোগ করেন, “নীতেশ রানে ঠিকই বলেছেন। আমির খান লাভ জেহাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়ে উঠতেই পারেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের ও ভক্তদের হৃদয়ে আর কখনো জায়গা করে নিতে পারবেন না।”
দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ও বজরং দলের বিক্ষোভ
রাজনৈতিক নেতাদের এই বয়ানের পাশাপাশি মাঠপর্যায়েও ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি বিহারের ফোরবেসগঞ্জ এলাকায় বজরং দলের সদস্যরা আমিরের এই তৃতীয় বিয়ের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সেখানে অভিনেতার কুশপুতুল পোড়ানো হয় এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে দেশ থেকে বিতাড়িত করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তবে এই সমস্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক নিয়ে আমির খানের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফিরে দেখা আমিরের ব্যক্তিগত জীবন
উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে রীনা দত্তের সঙ্গে প্রথমবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন আমির খান। সেই বৈবাহিক সম্পর্কের অবসানের পর কিরণ রাওয়ের সঙ্গে ঘর বাঁধেন তিনি। তবে সেই সম্পর্কও টেকেনি। সম্প্রতি গত ৫ই জুলাই সম্পূর্ণ ঘরোয়া পরিসরে ‘স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট’ (Special Marriage Act)-এর অধীনে দীর্ঘদিনের বান্ধবী গৌরী স্প্র্যাটের সাথে আইনি বিয়ে সারেন ৬০ বছর বয়সী আমির। আর এই নতুন সম্পর্কের হাত ধরেই শুরু হয়েছে তাঁর জীবনের নতুন ইনিংস ও দেশজোড়া নতুন বিতর্ক।
