Red Corner Notice : বেপাত্তা টুলুর বিরুদ্ধে রেড কর্নার! ১৪ই আগস্টের মধ্যে আদালতে না এলে ‘ঘোষিত অপরাধী’ !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, বীরভূম :- সাড়ে ২৮ কোটি টাকা ও ১৫ কেজি সোনা উদ্ধারের পরও অধরা ‘পাথর সম্রাট’ টুলু মণ্ডল। তাঁকে খুঁজে না পেয়ে এবার কড়া পদক্ষেপ আদালতের। টুলুর বিরুদ্ধে ‘রেড কর্নার’ নোটিস জারির নির্দেশ দিল সিউড়ি আদালত। ১৪ই আগস্টের মধ্যে হাজিরা না দিলেই তাঁকে ‘ঘোষিত অপরাধী’ ঘোষণা করে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার ডেউচা গ্রামে টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে সম্প্রতি নগদ সাড়ে ২৮ কোটি টাকা ও ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করে পুলিশ। তার পর থেকেই তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন টুলু। কোথায় কোথায় তাঁর সম্পত্তি আছে, তার খোঁজে দিকে দিকে তল্লাশি চলছে। তাঁর বিভিন্ন ঠিকানা ও আত্মীয়-ঘনিষ্ঠদের বাড়িতেও হানা দিচ্ছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তের স্বার্থে টুলুকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইলেও তাঁর কোনও হদিস পাচ্ছে না পুলিশ। তাই সোমবার সরকারের তরফে সিউড়ি আদালতে ‘রেড কর্নার’ নোটিস জারির আবেদন করা হয়। সেই আবেদন মঞ্জুর করে আদালত।
সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ১৪ই আগস্টের মধ্যে টুলুকে আদালতে হাজিরা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজিরা না দিলে তাঁকে ‘ঘোষিত অপরাধী’ হিসাবে গণ্য করা হবে। তার পরেই তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
সরকারি আইনজীবীর দাবি, গত পাঁচ বছরে টুলু প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার রাজস্ব চুরি করেছেন।
এই মামলায় সোমবার টুলুর এক আত্মীয় রিপন মণ্ডলকে পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রাম থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার তাঁকে সিউড়ি আদালতে পেশ করা হয়। একই সঙ্গে আরও দুই ধৃত শেখ রিয়াজুল ইসলাম ও শেখ নূর আলমকেও আদালতে হাজির করিয়ে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন মঞ্জুর হয়। তিনজনের নামই জড়িয়েছে পাথর সিন্ডিকেটের সঙ্গে।
ধৃতদের আইনজীবী রাফাউল হকের প্রশ্ন, “কেন শুধু তাঁর মক্কেলদের জড়ানো হচ্ছে? সেই সময় প্রশাসনিক পদে থাকা আধিকারিকদেরও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।”
রেড কর্নার থেকে ঘোষিত অপরাধী — পাথর চুরির তদন্তে এবার চাপে টুলু মণ্ডল। ১৪ই আগস্ট আদালতে তিনি হাজিরা দেন কি না, সেটাই এখন দেখার। হাজিরা না দিলে তিন হাজার কোটির রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে তাঁর বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
