আজকের দিনেতিলোত্তমাবাংলার আয়নাভারত

Railway Minister-WB CM : ৬ জুন নবান্নে রেলমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী বৈঠক, কাটবে বাংলার রেল-জট ?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা: -বাংলার থমকে থাকা মেগা রেল প্রকল্পে গতি আনতে ৬ জুন, শনিবার কলকাতায় আসছেন কেন্দ্রীয় রেল ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। নবান্ন সূত্রে খবর, সকাল ১১টায় নবান্ন সভাগৃহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসবেন তিনি।

গত দেড় দশক ধরে জমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও রাজ্য-কেন্দ্রের টানাপোড়েনে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রেল ও মেট্রো প্রকল্পের কাজ কার্যত থমকে আছে। নবান্নের এই মেগা বৈঠকেই সেই দীর্ঘদিনের ডেডলক কাটিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করার রোডম্যাপ তৈরি হবে বলে আশাবাদী প্রশাসনিক মহল।

বিশেষ করে জোকা-বিবাদী বাগ মেট্রো প্রকল্পে মোমিনপুর থেকে এসপ্ল্যানেড অংশের জমি, মাঝেরহাটে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ছাড়পত্র এবং খিদিরপুর-ডায়মন্ড হারবার রোডের কিছু অংশে জমি জটের কারণে মাটির তলার কাজ আটকে ছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও কলকাতা পুরসভার সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে এই জট খোলার কাজে গতি এসেছে। একইভাবে নোয়াপাড়া-বারাসাত মেট্রো রুটে বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকা এবং বারাসাত লাইনের উপর থাকা জবরদখল ও উচ্ছেদ সংক্রান্ত জটিলতায় এক দশকের বেশি সময় ধরে কাজ এগোয়নি। উত্তর ২৪ পরগনার এই লাইফলাইন প্রকল্পে জমি জট মিটিয়ে বিমানবন্দরের সঙ্গে শহরতলির সংযোগ মসৃণ করাই এখন অগ্রাধিকার।

অন্যদিকে নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো রুটের কাজ অনেকটা এগোলেও চিংড়িঘাটা মোড় ও মহিষবাথান এলাকায় ইমারত ও জমি সংক্রান্ত জটে আটকে ছিল। নিউ টাউনের কিছু অংশে সাব-স্টেশন তৈরির জমি নিয়েও সমস্যা চলছিল। সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গেই চিংড়িঘাটার জট কেটে যাওয়ায় কাজে গতি এসেছে। বাকি জট কাটাতেও ৬ জুনের বৈঠকে আলোচনা হবে।

পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোর শিয়ালদহ থেকে এসপ্ল্যানেড অংশের কাজও বউবাজার এলাকার বিপর্যয়, মাটির তলার সুড়ঙ্গে ফাটল বিতর্ক এবং পুনর্বাসন ও জমি ছাড়পত্রের প্রশাসনিক ঢিলেমিতে দীর্ঘদিন পিছিয়ে ছিল। পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর-রাইদিঘি নতুন লাইন, ক্যানিং-ভাঙনখালি প্রকল্প এবং উত্তরবঙ্গের একাধিক রেললাইন সম্প্রসারণের কাজও জমি না পাওয়া ও কৃষকদের ক্ষতিপূরণ জটে থমকে ছিল। পূর্বতন সরকারের নীতির কারণে রেল মন্ত্রক চাইলেও জমি হস্তান্তর না হওয়ায় কোটি কোটি টাকার প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছিল।

নবান্ন সূত্রে দাবি, এবার জেলা প্রশাসন, পুরসভা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে জমি সংক্রান্ত সমস্ত ফাইল দ্রুত ক্লিয়ার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর এই সফরে সেই কাজে আরও গতি আসবে বলেই মনে করছে রাজ্য।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ ১৫ বছর পর কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে বাংলায়। পূর্বতন সরকারের সঙ্গে ‘সংঘাতের রাজনীতি’র অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের পরিকাঠামোয় আমূল বদল আনতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের এই সফর শুধু সৌজন্যমূলক নয়, বরং বাংলায় আটকে থাকা হাজার হাজার কোটি টাকার কেন্দ্রীয় বিনিয়োগ বাস্তবায়নের চূড়ান্ত ধাপ। ৬ জুনের বৈঠকই ঠিক করে দেবে আগামী দিনে রাজ্যের রেল-মানচিত্র কতটা বদলায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *