দ্বিতীয়বার কার্লসেন-বধ, নরওয়ে দাবার লড়াই জমিয়ে দিলেন প্রজ্ঞানন্দ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- ম্যাগনাস কার্লসেনকে একবার হারানোই অনেকের স্বপ্ন। আর এক টুর্নামেন্টে দু’বার? সেই অবিশ্বাস্য কাজই করে দেখালেন আর প্রজ্ঞানন্দ। নরওয়ে দাবার অষ্টম রাউন্ডে কালো ঘুঁটি নিয়ে বিশ্বের এক নম্বরকে পর্যুদস্ত করে নতুন ইতিহাস গড়লেন ভারতের তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার।
প্রজ্ঞানন্দই প্রথম ভারতীয় যিনি একই প্রতিযোগিতায় কার্লসেনকে দু’বার ক্লাসিক্যাল দাবায় হারালেন। চলতি বছরে এই ফরম্যাটে বিশ্বের এক নম্বরকে দু’বার পরাস্ত করা একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বীও তিনিই। তৃতীয় রাউন্ডেও সাদা ঘুঁটি নিয়ে কার্লসেনকে হারিয়েছিলেন প্রজ্ঞা। অষ্টম রাউন্ডে কালো ঘুঁটি নিয়ে সেই কাজটা আরও একবার করে দেখালেন ১৯ বছরের চেন্নাইয়ের তরুণ।
ম্যাচের মাঝপর্ব পর্যন্ত সমানে সমানে লড়াই চলছিল। কিন্তু এন্ডগেমে কার্লসেনের একটা ভুল চালের সুযোগ নেন প্রজ্ঞানন্দ। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সময়ের চাপে কার্লসেন আরও ভুল করেন। শেষ পর্যন্ত ৫৪ চালে ম্যাচ ছেড়ে দেন নরওয়ের তারকা। ম্যাচ শেষে কার্লসেনের প্রতিক্রিয়া ছিল দেখার মতো। প্রজ্ঞানন্দের সঙ্গে হাত মিলিয়ে উঠে দাঁড়ান, তারপর মাথা নাড়তে নাড়তে মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যান। মুখে কোনও কথা নেই, শুধু হতাশার ছাপ। ধারাভাষ্যকাররাও বলছেন, কার্লসেনকে এতটা বিধ্বস্ত আগে দেখা যায়নি। নিজের দেশের মাটিতেই এবার চারটি ক্লাসিক্যাল ম্যাচে হারতে হয়েছে তাঁকে। তার মধ্যে দু’টি প্রজ্ঞানন্দের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ আধিপত্যের পর এমন পরিস্থিতি কার্লসেনের কেরিয়ারে বিরল। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম কোনও টুর্নামেন্টে চারটি ক্লাসিক্যাল ম্যাচ হারলেন তিনি। এই জয়ের ফলে প্রজ্ঞানন্দের পয়েন্ট দাঁড়াল ১২। উঠে এলেন তৃতীয় স্থানে। অন্যদিকে কার্লসেনের অষ্টম নরওয়ে দাবা খেতাব জেতার আশা বড়সড় ধাক্কা খেল। ৯.৫ পয়েন্ট নিয়ে তিনি এখন পঞ্চম স্থানে।
শীর্ষে রয়েছেন মার্কিন গ্র্যান্ডমাস্টার ওয়েসলি সো। জার্মানির ভিনসেন্ট কাইমারকে আর্মাগেডন টাইব্রেকে হারিয়ে তাঁর পয়েন্ট ১৪। দ্বিতীয় স্থানে ফ্রান্সের আলিরেজা ফিরুজা। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ডি গুকেশকে হারিয়ে পয়েন্ট ১৩। গুকেশের দিনটা ভাল যায়নি। ফিরুজার কাছে হেরে ৮ পয়েন্টেই আটকে রইলেন। বাকি দুই ম্যাচ জিতলেও সর্বোচ্চ ১৪ পয়েন্ট হবে, যা খেতাবের জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।
শেষ দুই রাউন্ডের আগে খেতাবের লড়াই ত্রিমুখী। তবে আলোচনার কেন্দ্র এখন আর শুধু ম্যাগনাস নন। তাঁকে ছাপিয়ে জোরালোভাবে উঠে এসেছেন আর প্রজ্ঞানন্দ। কার্লসেনকে তাঁর ঘরের মাঠে দু’বার হারিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন, শীর্ষ স্তরের দাবায় ভারতীয় তরুণদের উপস্থিতি আর ভবিষ্যতের গল্প নয়, বর্তমানের বাস্তবতা।
