আজকের দিনেবাংলার আয়না

উদ্ধার পিস্তল, এয়ারগান ও ৬০০-র বেশি কার্তুজ; ধৃত জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ ও তাঁর ভাই

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,বারাসাত: উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও দুর্নীতি দমনের বার্তার মাঝেই এবার মছলন্দপুরে মিলল বিপুল পরিমাণ বেআইনি টাকা ও অস্ত্রের হদিশ। রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (বালু) ঘনিষ্ঠ দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ কর্মাধ্যক্ষ অজিত সাহার বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো নগদ ২৭ লক্ষের বেশি টাকা, আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬২৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ। মঙ্গলবার গভীর রাতে গোবরডাঙা থানার পুলিশের এই মেগা অভিযানের পর কর্মাধ্যক্ষ অজিত সাহা এবং তাঁর ভাই সুজিত কুমার সাহা (সুবীর)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ, বুধবার ধৃতদের বারাসাত আদালতে তোলা হয়েছে।

মাঝরাতে মছলন্দপুরে মেগা রেইড: কী কী উদ্ধার হলো?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে মছলন্দপুরে অজিত সাহা ও তাঁর ভাইয়ের বাড়িতে অতর্কিতে হানা দেয় গোবরডাঙা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর তালিকা দেখে চক্ষু চড়কগাছ দুঁদে পুলিশ আধিকারিকদেরও।

উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর খতিয়ান:

  • নগদ টাকা: বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে নগদ ২৭ লক্ষের বেশি টাকা। কেন এই বিপুল পরিমাণ টাকা বাড়িতে মজুত রাখা হয়েছিল, তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি ওই দুই নেতা।

  • অস্ত্র ও কার্তুজ: উদ্ধার হয়েছে একটি সেভেন এমএম পিস্তল এবং একটি এয়ারগান। এর পাশাপাশি মিলেছে মোট ৬২৬ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ৬১টি গুলির খোল।

  • বিদেশি মদ: বেআইনি অস্ত্র ও টাকার পাশাপাশি ওই বাড়ি থেকে ৫২ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুরোনো অপরাধের খতিয়ান ও রাজনৈতিক গুঞ্জন

এলাকার দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত অজিত সাহা আদতে রেশন দুর্নীতি মামলায় জেলবন্দি প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। এই গ্রেপ্তারির পর হাবড়া ও মছলন্দপুর এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক গুঞ্জন ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজি, হুমকি এবং ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট-পরবর্তী হিংসায় যুক্ত থাকার একাধিক অভিযোগ ছিল।

আদালতে ১০ দিনের হেফাজতের আর্জি: আজ বুধবার ধৃতদের বারাসাত আদালতে পেশ করার সময় পুলিশের তরফ থেকে তাঁদের ১০ দিনের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই বিপুল পরিমাণ টাকা এবং বেআইনি অস্ত্রের নেপথ্যে বড় কোনো চক্র কাজ করছে।

“তৃণমূল করি বলেই ফাঁসানো হয়েছে”

এদিকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ধৃতরা। সুজিত সাহা ক্ষোভ উগরে দিয়ে দাবি করেন, “তৃণমূল কংগ্রেস করি বলেই আমাদের চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে।” একই সুরে সুর মিলিয়েছেন জেলা পরিষদের ধৃত কর্মাধ্যক্ষ অজিত সাহাও।

কয়েকদিন আগেই কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের বিগত আমলের দুর্নীতি খতিয়ে দেখার কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার পরপরই জেলা পরিষদের খোদ স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষের বাড়ি থেকে এই বিপুল পরিমাণ টাকা ও কার্তুজ উদ্ধার হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *