আজকের দিনেবাংলার আয়নাভারতরাজনীতি

আগামী সপ্তাহেই সংসদে ‘অপারেশন লোটাস’: ভাঙনের মুখে তৃণমূলের লোকসভা দল

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বিধানসভার পর এবার লোকসভায় বড় ভাঙনের জল্পনা তৃণমূল কংগ্রেসে। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, বাদল অধিবেশন শুরুর আগে আগামী সপ্তাহেই ‘অপারেশন লোটাস’-এর দ্বিতীয় পর্ব শুরু হতে চলেছে। দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ১৮-১৯ জন সাংসদকে একসঙ্গে দল ছাড়ানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে।

তৃণমূলের লোকসভায় বর্তমানে সাংসদ সংখ্যা ২৯। সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী, দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতা এড়াতে কোনও দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যকে একসঙ্গে ভেঙে বেরোতে হয়। সেই হিসেবে তৃণমূলের ক্ষেত্রে ম্যাজিক ফিগার ১৯। সূত্রের খবর, এর মধ্যে অন্তত ১২ জন সাংসদের দল ছাড়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন। তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং আইনি পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। বাকি ৬-৭ জন সাংসদের সম্মতি আদায়ে শেষ মুহূর্তের দৌত্য চলছে। এই তালিকায় উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক হেভিওয়েট সাংসদ রয়েছেন। চাঞ্চল্যকর দাবি, এদের মধ্যে ৩-৪ জন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং একসময় দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছেন। তাদের দল ছাড়ার পিছনে ‘পুরনো ক্ষোভ’ ও ‘ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নিরাপত্তা’ কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।এর আগে রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৪ জনের বেশি বিধায়ক দল ভেঙে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে। স্পিকারের স্বীকৃতি পেয়ে তারা এখন বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা ভোগ করছে। সেই একই ‘বিধানসভা মডেল’-এ এবার সংসদীয় দল ভাঙার ছক কষা হয়েছে। নতুন গোষ্ঠীটি লোকসভায় পৃথক ব্লক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে সমর্থন দিতে পারে, অথবা ‘নিরপেক্ষ ব্লক’ হিসেবে থাকতে পারে।‘সুরক্ষার স্বার্থে’ ভাঙনে সামিল সাংসদদের নাম এখনই প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না। তবে দিল্লিতে তাদের থাকার ও আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে খবর। দলের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, শুধু লোকসভা নয়, আগামী দিনে রাজ্যসভাতেও ‘অপারেশন লোটাস’ চালানো হবে।

এই ভাঙন কার্যকর হলে লোকসভায় তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও জাতীয় রাজনীতিতে দরকষাকষির ক্ষমতা বড় ধাক্কা খাবে। ২০২৯-এর লোকসভা ভোটের আগে বাংলায় শাসকদলের এই ভাঙন বিজেপির কাছে বড় অক্সিজেন হতে পারে। বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমীকরণেও এর সরাসরি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা। তবে তৃণমূলের তরফে এখনও এই জল্পনা নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি। বাদল অধিবেশনের আগেই ছবিটা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *