আজকের দিনেতিলোত্তমা

৭৮ বিধায়কের মধ্যে ধর্নায় হাজির মাত্র ৬, তবুও ‘বিজেপিকে সরাবই’ হুঙ্কার মমতার

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- খাতায় কলমে তৃণমূলের ৭৮ জন বিধায়ক থাকলেও মঙ্গলবার ওয়াই চ্যানেলের ধর্নায় উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৬ জন। সাংসদ ছিলেন ৫ জন। দলের এই ‘শক্তি পরীক্ষায়’ ডাহা ফেল করলেও আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্না মঞ্চ থেকে তাঁর ঘোষণা, “জিয়েঙ্গে তো বিজেপি কো হাটাকে যায়েঙ্গে”। অর্থাৎ বেঁচে থাকলে বিজেপিকে তিনি বাংলা ছাড়া করবেনই।

নির্বাচনে ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার দাবি করেছেন, তিনি হারেননি, তাঁকে হারানো হয়েছে। আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জও দিয়েছিলেন। এই আত্মবিশ্বাসের নেপথ্যে ছিল দলের নেতা-কর্মীরা। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের কয়েকদিন পেরতেই তাসের ঘরের মতো ভাঙছে সংগঠন। মমতা-অভিষেকের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত বহু নেতা প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন।গত রবিবার কালীঘাটে মমতার বাড়িতে জয়ী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেখানে ২০ জনেরও দেখা মেলেনি। ফলে বৈঠক বাতিল হয়। এরপর মঙ্গলবারের ধর্না কর্মসূচিকে ঘুরপথে শক্তি পরীক্ষার কৌশল হিসেবেই দেখছিল রাজনৈতিক মহল। কিন্তু সেখানেও মুখ থুবড়ে পড়ল তৃণমূল।মঙ্গলবারের ধর্নায় বিধায়কদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র, ববি হাকিম, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, অশোক দেব ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সাংসদদের মধ্যে ছিলেন ডেরেক ও ব্রায়েন, সামিরুল ইসলাম, দোলা সেন, মালা রায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অর্থাৎ সাংসদ-বিধায়ক মিলিয়ে ১৫ জনকেও পাশে পাননি মমতা।গত কয়েক বছরে মমতা-অভিষেক বারবার তারুণ্যে জোর দেওয়ার কথা বলেছিলেন। সেই মতো অনেক তরুণ মুখকে প্রার্থীও করা হয়েছিল। কিন্তু এদিন মমতার পাশে দেখা গেল সেই আদি তৃণমূলের গুটি কয়েক নেতাকেই।ধর্না মঞ্চ থেকে মমতা বলেন, “আমি কারও সুদিনে না-হোক, দুর্দিনে আছি। বিজেপি বাদে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক আছে। তবে বিজেপির যাঁরা এখন অনেক কথা বলছেন, তাঁদের পাশেও ছিলাম। জিয়েঙ্গে তো বিজেপি কো হাটাকে যায়েঙ্গে।” দলের ভাঙনের জন্য বিজেপিকেই দায়ী করে তিনি বলেন, “ওরা বিধায়ক, সাংসদদের ভাঙিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।”

নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর সংগঠন ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে তৃণমূল। ৭৮ জন বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও ধর্নায় মাত্র ৬ জনের উপস্থিতি দলের অন্দরের ধস স্পষ্ট করে দিয়েছে। রবিবারের বৈঠক বাতিলের পর মঙ্গলবারের কর্মসূচিতেও নেতাদের অনুপস্থিতি মমতার ‘শক্তি পরীক্ষায়’ ব্যর্থতাই তুলে ধরল। যদিও নেত্রী এখনও আত্মবিশ্বাসী। বিজেপিকে বাংলা থেকে সরানোর হুঙ্কার দিলেও বাস্তবে দল ভাঙন রুখতে পারছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *