আজকের দিনেতিলোত্তমা

আদালতের চরম ভর্ৎসনার মুখে অভিষেক! দেশ ছাড়ায় নিষেধাজ্ঞা, রক্ষাকবচ দিয়েও শর্ত বাঁধল হাইকোর্ট

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ নাম না করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করার মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে তৃণমূল সাংসদকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আদালতের অনুমতি ছাড়া অভিষেকের দেশ ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত তাঁর গ্রেপ্তারি বা কড়া পদক্ষেপের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ দিয়েছে আদালত।

“তিনবারের সাংসদ হয়ে এই দায়িত্বজ্ঞানহীনতা?” ক্ষুব্ধ বিচারপতি

নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর ও মামলা খারিজের আবেদন নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এদিন শুনানির শুরুতেই আদালতের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি।

তৃণমূলের শীর্ষ নেতার মন্তব্যের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন: “উনি একজন তিনবারের নির্বাচিত সাংসদ এবং একটি সর্বভারতীয় দলের সাধারণ সম্পাদক। একজন সাংসদ হয়ে তিনি কীভাবে এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করলেন? ভেবে দেখুন, ভোটের ফল যদি অন্যরকম হতো, তাহলে কী হতো?”

জবাবে অভিষেকের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “হয়তো শান্তি থাকত।” পাল্টা মন্তব্য করে বিচারপতি বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস খুব ভালো কথা বলে না।” তিনি মনে করিয়ে দেন, মানুষ ভালোর কথা ভেবেই ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তন এনেছিলেন। কল্যাণবাবু তখন বলেন, “মানুষ ২০২৬-এও ভালোর কথাই ভেবেছে।” এর জবাবে বিচারপতি তাৎপর্যপূর্ণভাবে মন্তব্য করেন, “সেটা সময় বলবে।”

রক্ষাকবচের সাথে একগুচ্ছ কড়া শর্ত

আদালত এই মামলাটি খারিজ না করলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন আইনি সুরক্ষা বা রক্ষাকবচ দিয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনো চরম বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করতে পারবে না। তবে এই সুরক্ষার সাথে কয়েকটি কড়া শর্ত বেঁধে দিয়েছে হাইকোর্ট:

  • দেশ ছাড়ায় নিষেধাজ্ঞা: আদালতের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনোভাবেই ভারতের বাইরে বা বিদেশে যেতে পারবেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

  • তদন্তে সহযোগিতা: তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে তাঁকে।

  • জিজ্ঞাসাবাদের নোটিস: পুলিশ যদি অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়, তবে তাঁকে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে আগাম নোটিস পাঠাতে হবে।

ভার্চুয়াল হাজিরার আবেদন নাকচ করল আদালত

শুনানি চলাকালীন অভিষেকের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করে দাবি করেন, তদন্তের নামে তাঁর মক্কেলকে সশরীরে ডেকে হেনস্থা করা হতে পারে। তাই তিনি অভিষেককে ভার্চুয়ালি (অনলাইন) হাজিরার সুযোগ দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানান। কিন্তু কল্যাণের এই আবেদন সরাসরি নাকচ করে দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তিনি কড়া ভাষায় বলেন: “সেটা হয় না। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে সশরীরে হাজিরা দিতেই হবে। আইন না মেনে আমরা কোনো পদক্ষেপ করব না।” হাইকোর্টের আজকের এই অবস্থান ও কড়া পর্যবেক্ষণ রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল শিবিরের অস্বস্তি অনেকটাই বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। ৩০ জুলাই পরবর্তী শুনানিতে এই মামলা কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *