হগ মার্কেটে বুলডোজার তাণ্ডব: হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা, কাঠগড়ায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: রাজ্যে ১৫ বছর পর রাজনৈতিক পালাবদল এবং বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার আবহে উত্তপ্ত কলকাতা। নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন গভীর রাতে নিউ মার্কেট এলাকার হগ মার্কেটে বুলডোজার দিয়ে হকারদের স্টল ও তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় এবার আইনি জট। এই ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার মূল বিষয়বস্তু
মামলাকারীর অভিযোগ, হগ মার্কেট এলাকায় যখন জেসিবি বা বুলডোজার দিয়ে তাণ্ডব চালানো হচ্ছিল, তখন সেখানে বেশ কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সামনেই হকারদের অস্থায়ী কাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, অথচ পুলিশ কোনো বাধা দেয়নি। মামলায় আবেদন জানানো হয়েছে:
- কর্তব্যে গাফিলতি থাকা পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
- হগ মার্কেট ছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোট-পরবর্তী হিংসা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। আগামীকাল, শুক্রবার এই মামলাটির শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
ভোট গণনার দিন রাতেই নিউ মার্কেট এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, বিজেপির ঝান্ডা হাতে একদল যুবক হগ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় বুলডোজার নিয়ে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে তছনছ করে দেওয়া হয় হকারদের বসার জায়গা এবং স্থানীয় তৃণমূল কার্যালয়। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ কমিশনারের কড়া বার্তা
হগ মার্কেটের ঘটনায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কলকাতা পুলিশের নগরপাল অজয় নন্দা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন: ১. বিজয় মিছিলে কোনোভাবেই জেসিবি বা বুলডোজার ব্যবহার করা যাবে না। ২. যারা এই ধরণের কাজের জন্য জেসিবি ভাড়া দেবেন, সেই মালিকদের বিরুদ্ধেও কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে। ৩. যে কোনো ধরণের বিজয় মিছিলের জন্য পুলিশের কাছ থেকে আগাম অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।
রাজ্যের পরিস্থিতি
ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে অশান্তির খবর আসছে। তৃণমূলের একাধিক পার্টি অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। মামলাকারীর দাবি, পুলিশ অনেক ক্ষেত্রেই নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে, তাই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালতের হস্তক্ষেপই এখন একমাত্র পথ।
