আজকের দিনেবাংলার আয়না

সুন্দরবন বাঁচাতে মিষ্টি জলের পথে নতুন উদ্যোগ …..

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- সুন্দরবনকে বাঁচাতে গঙ্গার অবলুপ্তপ্রায় গতিপথ পুনরুদ্ধারের কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। কথিত আছে, ভাগীরথ মহাদেবকে তুষ্ট করে গঙ্গাকে স্বর্গ থেকে মর্ত্যে নামিয়ে এনে সাগর রাজার সন্তানদের প্রাণ ফিরিয়েছিলেন। সেই গঙ্গার জলের ধারাই এক সময় সুন্দরবনের নদীগুলিকে মিষ্টি জলে ভরিয়ে রাখত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই প্রবাহ অনেকটাই কমে গেছে।
সেচ দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, সুন্দরবনের নদ–নদীতে লবণাক্ততার পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। সমুদ্রের নোনা জল ঢুকে বাদাবনের পরিবেশ বদলে যাচ্ছে। কমছে ম্যানগ্রোভ, বাড়ছে নদী ভাঙন, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চাষবাস। নদীতে মাছের উৎপাদনও কমছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি এমন চলতে থাকলে ভবিষ্যতে সুন্দরবনের প্রাণ সম্পদ
এমনকি সুন্দরবনের প্রতীক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারদের টিকে থাকাও কঠিন হবে।

সুন্দরবনের কুমির বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। তাই মিষ্টি জলের জোগান বাড়াতে বড় প্রকল্পের পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। এতে খরচ হবে কয়েক হাজার কোটি টাকা। ঋণ নেওয়া হতে পারে এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাঙ্কের কাছ থেকে। প্রকল্পের জন্য ফিজিলিবিলিটি স্টাডি ও ডিটেলড প্রোজেক্ট রিপোর্ট তৈরির টেন্ডারও ডাকা হয়েছে।

সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে দ্রুত কাজ শুরু হবে। লক্ষ্য— সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষা ও মানুষের জীবন–জীবিকা সুরক্ষিত রাখা।

ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যাখ্যা, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের জল বেড়েছে। তাই নদীতে নোনা জলের প্রবেশ বাড়ছে। পাশাপাশি গঙ্গার গতিপথ বদলে যাওয়ায় হুগলী নদী, বিদ্যাধরী, রায়মঙ্গল, মাতলা, মুড়িগঙ্গার মতো নদীতে মিষ্টি জলের জোগান কমেছে।

নতুন প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে সুন্দরবন আপার ডেল্টা ক্লাইমেট রিসাইলেন্ট ডেভেলপমেন্ট প্রোজেক্ট। এর মাধ্যমে নদীর লবণাক্ততা কমানো, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পুকুর–জলাশয় পুনরুজ্জীবন এবং আদিগঙ্গা ও পিয়ালির মতো নদী–খাল সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার ভেড়ি ও বিলগুলিও পুনরুজ্জীবিত করা হবে, যাতে মিষ্টি জলের জোগান বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লবণাক্ততা যদি ২০ পিপিটি–র বেশি হয়, তবে সুন্দরবনের অনেক উদ্ভিদ ও জীবজন্তু বিলুপ্ত হতে পারে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ২০২০ সালে সর্বোচ্চ ২৭ পিপিটি লবণাক্ততা ছিল; ২০৫০ সালে তা ৩১–৩২ পিপিটি পর্যন্ত বাড়তে পারে। তাই এখনই পদক্ষেপ জরুরি।
চাইলে আমি হেডলাইন ও ছোট হেডলাইন আলাদা করে, অথবা সংবাদ প্রতিবেদন আকারে আরও ঝরঝরে ভাষায় লিখে দিতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *