চলন্ত গাড়ি যেন আগুনের গোলা! রাজস্থানে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু ৫ বৈষ্ণোদেবী পুণ্যার্থীর
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,অলওয়াড়: বৈষ্ণোদেবী দর্শন সেরে ফেরার পথে রাজস্থানের অলওয়াড়ে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা। দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়ের ওপর চলন্ত গাড়িতে আচমকা আগুন লেগে মৃত্যু হল তিন মহিলা ও এক শিশু-সহ একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গাড়ির চালক।
বৈষ্ণোদেবী থেকে ফেরার পথেই বিপর্যয়
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত পুণ্যার্থীরা প্রত্যেকেই মধ্যপ্রদেশের শেওপুর জেলার বাসিন্দা। জম্মু-কাশ্মীরে বৈষ্ণোদেবী দর্শন সেরে বুধবার রাতে তাঁরা নিজেদের চারচাকা গাড়িতে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত ১টা নাগাদ রাজস্থানের অলওয়াড় জেলার লক্ষ্মণগড় থানার মৌজপুর এলাকায় দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়ের ওপর চলন্ত গাড়িতে আচমকা আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে গাড়িটি আগুনের গোলায় পরিণত হয়।
শর্ট সার্কিট না কি গ্যাস সিলিন্ডার?
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ও দমকলের অনুমান, শর্ট সার্কিটের জেরেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। তবে গাড়িটি সিএনজি (CNG) চালিত হওয়ায় আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কেন্দ্রীয় লক সিস্টেম বিকল হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা ভিতর থেকে দরজা খুলতে পারেননি। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা গাড়ি থেকে বেরোনোর সুযোগ পাননি পাঁচ আরোহী। স্থানীয়রা ছুটে আসলেও আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
চালকের অবস্থা আশঙ্কাজনক
দুর্ঘটনার সময় চালক বিনোদ কুমার মেহর কোনোক্রমে জ্বলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে প্রাণে বাঁচেন। তবে তাঁর শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। তাঁকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জয়পুরে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
পুলিশ জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ১৫ মিনিট সময় লাগে দমকলের। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। গাড়ির ভিতর থেকে পুণ্যার্থীদের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। শনাক্তকরণের জন্য ডিএনএ (DNA) টেস্ট করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুণ্যার্থীদের এলাকায়। এক্সপ্রেসওয়ের নিরাপত্তা এবং গাড়ির ফিটনেস নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
