বঙ্গে কি পরিবর্তন না প্রত্যাবর্তন? এক্সিট পোলকে ছাপিয়ে চর্চায় ফালোদি-মুম্বইয়ের সাট্টাবাজার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল জানতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। তার আগেই তুঙ্গে উঠেছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিভিন্ন বুথ ফেরত সমীক্ষা বা ‘এক্সিট পোল’ যখন হরেক রকম ফলের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তখন রাজনীতির কারবারিদের নজর কেড়েছে দেশের একাধিক ‘সাট্টাবাজার’। বিশেষ করে রাজস্থানের বিখ্যাত ফালোদি সাট্টাবাজারের পূর্বাভাস ঘিরে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
ফালোদি সাট্টাবাজার: কার পাল্লা ভারী?
রাজস্থানের যোধপুরের কাছে এক ছোট্ট শহর ফালোদি। বেআইনি হলেও এই বাজারের বুকিদের করা পূর্বাভাস অতীতে বহুবার অক্ষরে অক্ষরে মিলে গিয়েছে। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ফালোদি সাট্টাবাজারের বুকিরা এবার বঙ্গ যুদ্ধে বিজেপিকে সামান্য এগিয়ে রাখছে।
-
বিজেপি: ১৪৬-১৪৯টি আসন।
-
তৃণমূল: ১৪০-১৪৬টি আসন।
অর্থাৎ, ফালোদির হিসেবে বাংলা দখলের লড়াইয়ে কান ঘেঁষে এগিয়ে গেরুয়া শিবির। তবে এই লড়াই যে কতটা হাড্ডাহাড্ডি, তা এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট।
দিল্লি ও মুম্বই সাট্টাবাজারের ভিন্ন সুর
ফালোদির পাশাপাশি দিল্লি ও মুম্বইয়ের সাট্টাবাজারের দিকেও নজর রয়েছে সকলের। তবে সেখানেও রয়েছে মতভেদ।
-
দিল্লি সাট্টাবাজার: ফালোদির ঠিক উল্টো ছবি দেখা যাচ্ছে এখানে। দিল্লির সমীক্ষায় তৃণমূল পেতে পারে ১৪৬-১৪৯টি আসন এবং বিজেপি পেতে পারে ১৪০-১৪৩টি। অর্থাৎ এখানে সামান্য এগিয়ে ঘাসফুল শিবির।
-
মুম্বই সাট্টাবাজার: মুম্বই অবশ্য একচেটিয়াভাবে এগিয়ে রেখেছে বিজেপিকে। তাদের হিসেবে বিজেপি পেতে পারে ১৭৫-১৮৫টি আসন, আর তৃণমূল ১২৭-১৩২টির মধ্যেই থমকে যেতে পারে।
বদলে যাওয়া সমীকরণ
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, প্রথম দফার ভোটের পর কিন্তু এই সাট্টাবাজারগুলোতেই এগিয়ে ছিল তৃণমূল। সেই সময় বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার ধারেকাছেও ছিল না। কিন্তু দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই ছবিটা আমূল বদলে গিয়েছে। বুকিদের দর বদলে যাওয়ায় এখন বিজেপির পাল্লা ভারী বলে মনে করছেন বাজিকররা।
যদিও এই সব সমীক্ষাকে ধ্রুবসত্য মানতে নারাজ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সাট্টাবাজারের এই অনুমানের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই সমস্ত বুথ ফেরত সমীক্ষা ও সাট্টাবাজারের পূর্বাভাস খারিজ করে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের আসল রায় কী, তা জানা যাবে আগামী সোমবার ইভিএম খোলার পরেই।
