স্ট্রং রুমের পাহারায় ‘গুড়-বাতাসা’, ৪ তারিখের পর কি তৈরি ‘পাচন’? দুর্গাপুরে তুঙ্গে রাজনৈতিক তর্জা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, দুর্গাপুর: ভোটের গণনা হতে বাকি আর মাত্র কয়েকটা দিন। ইভিএম এখন কড়া নিরাপত্তায় বন্দি। কিন্তু কমিশনের পাহারার ওপর ভরসা রাখতে না পেরে দুর্গাপুরে ইভিএম পাহারা দিতে অভিনব পন্থা নিল তৃণমূল কংগ্রেস। দুর্গাপুর সরকারি মহাবিদ্যালয়ের গণনাকেন্দ্র থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে তৈরি হয়েছে তৃণমূলের ‘পাহারা কেন্দ্র’। আর সেই পাহারার হাতিয়ার হিসেবে ফিরে এল বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলের সেই বহুচর্চিত ‘গুড়-বাতাসা’ ও ‘পাচন’।
গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে গুড়-বাতাসা
দুর্গাপুর সরকারি মহাবিদ্যালয়ে রাখা হয়েছে পাণ্ডবেশ্বর, দুর্গাপুর পশ্চিম এবং দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম। সেখানে দিনরাত এক করে পাহারা দিচ্ছেন প্রায় ১০০ জন তৃণমূল কর্মী। প্রচণ্ড দাবদাহে শরীর সুস্থ রাখতে তাঁদের প্রধান খাদ্য এখন গুড় আর বাতাসা। তৃণমূল কর্মীদের দাবি, গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে গুড়-বাতাসার জুড়ি নেই। শুধু নিজেরা খাওয়া নয়, পথচলতি মানুষ আগ্রহ দেখালেও তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে এই ‘নৈবেদ্য’।
কেন এই পাহারা?
তৃণমূলের দুর্গাপুর ২ নম্বর ব্লকের যুব সভাপতি অজয় দেবনাথের নেতৃত্বে চলছে এই নজরদারি। তাঁদের অভিযোগ, বিজেপি যেকোনো সময় ইভিএমে কারচুপি করতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই এই ঘেরাটোপ। অজয়বাবু বলেন: “অনুব্রত মণ্ডল গুড়-বাতাসার কথা আগেই বলেছিলেন। আমরাও স্ট্রং রুম পাহারা দেওয়ার সময় শরীর ঠান্ডা রাখতে গুড়-বাতাসা খাচ্ছি। আর ৪ তারিখের জন্য পাচনও তৈরি করে রাখা আছে।”
ফিরল কেষ্ট-স্মৃতি
২০১৯-এর পঞ্চায়েত নির্বাচন হোক বা লোকসভা— বারবার অনুব্রত মণ্ডলের মুখে শোনা গিয়েছে ‘গুড়-বাতাসা’, ‘চরাম চরাম ঢাক’ কিংবা ‘পাচন’-এর দাওয়াই। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের শেষে দুর্গাপুরের তৃণমূল কর্মীদের গলায় সেই একই সুর শোনা যাওয়ায় শোরগোল শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ৪ মে ফল প্রকাশের পর বিরোধীদের জন্য ‘পাচন’ তৈরি রাখা হয়েছে। তবে এই পাচন রাজনৈতিক দাওয়াই নাকি অন্য কিছু, তা নিয়ে খোলসা করেননি তাঁরা। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই ‘পাহারা কেন্দ্র’ এবং ‘পাচন’ বার্তাকে কটাক্ষ করে বলা হয়েছে, পায়ের তলায় মাটি নেই বুঝেই তৃণমূল এখন ভয় দেখাচ্ছে। ৪ মে ইভিএম খুললেই মানুষের আসল ‘পাচন’ বোঝা যাবে। সব মিলিয়ে, গণনার আগের কয়েক দিন দুর্গাপুরের স্ট্রং রুম চত্বরে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন টগবগ করে ফুটছে।
