আজকের দিনেতিলোত্তমা

বিমান বসুকে হাত ধরে সামনের সারিতে বসালেন মমতা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: রাজনীতিতে তাঁরা আদর্শগতভাবে মেরুপ্রীতি—একপক্ষ ঘাসফুল, অন্যপক্ষ কাস্তে-হাতুড়ি। কিন্তু ব্যক্তিগত সৌজন্য ও শ্রদ্ধাবোধের ঊর্ধ্বে যে সুস্থ রাজনীতি আজও বেঁচে আছে, বৃহস্পতিবার লোকভবনে তারই প্রমাণ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবনিযুক্ত রাজ্যপাল আর এন রবির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রবীণ বাম নেতা বিমান বসুর প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর এই হৃদ্যতা এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

​এদিন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আসরে তৃতীয় সারিতে বসেছিলেন প্রবীণ সিপিআইএম নেতা বিমান বসু। বিষয়টি নজরে আসতেই মুখ্যমন্ত্রী আর বসে থাকতে পারেননি। নিজে উঠে এগিয়ে যান এবং বলেন, “বিমানদা, পিছনে কেন? আপনি সামনে আসুন না।” কেবল অনুরোধ করেই ক্ষান্ত হননি মমতা; প্রবীণ নেতার জন্য নিজে হাতে চেয়ার এগিয়ে দিয়ে তাঁকে সামনের সারিতে নিয়ে আসেন। তৎক্ষণাৎ সেখানে উপস্থিত না থাকা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের খালি আসনে বিমান বসুকে বসান তিনি। পাশাপাশি প্রবীণ নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবরও নেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, এই নিয়ে সাম্প্রতিককালে তিনবার প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বিমান বসুর প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

​এদিন সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ লোকভবনে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল নবনিযুক্ত রাজ্যপাল আর এন রবিকে শপথ বাক্য পাঠ করান। তামিলনাড়ুর প্রাক্তন এই রাজ্যপাল হিন্দিতে শপথ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।
​মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা এবং বিজেপির তরফে অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়। তবে রাজভবনের এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানেও বিশেষ নজর কেড়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অনুপস্থিতি।

​সিভি আনন্দ বোসের ইস্তফার পর পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আর এন রবি। প্রসঙ্গত, তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল থাকাকালীন সেখানকার এমকে স্ট্যালিন সরকারের সঙ্গে তাঁর সংঘাত জাতীয় রাজনীতিতে চর্চার বিষয় ছিল। একাধিক বিল পাশ করানো নিয়ে ডিএমকে সরকারের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ এতটাই চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তাঁকে সরানোর জন্য রাষ্ট্রপতির কাছেও আর্জি জানিয়েছিলেন স্ট্যালিন। ফলে, বাংলায় তাঁর নতুন এই ইনিংস রাজ্য-রাজ্যপাল সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *