ট্রামেই মাসির বাড়ি যাত্রা মহাপ্রভুর! তিলোত্তমার রাজপথে অনন্য রথযাত্রা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা:- আজ রাজ্যজুড়ে মহাসমারোহে পালিত হচ্ছে পবিত্র রথযাত্রা উৎসব। উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ— সর্বত্রই যখন চেনা ছন্দে রথের রশি টানতে ভক্তদের ঢল নেমেছে, ঠিক তখনই এক্কেবারে এক অন্যরকম ও নজিরবিহীন রথযাত্রার সাক্ষী হতে চলেছে কলকাতা শহর। শহরের ঐতিহ্যবাহী ট্রামকে বাঁচাতে এবং সাধারণ মানুষের কাছে এর জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে দিতে ট্রামেই মাসির বাড়ি পাড়ি দিচ্ছেন জগন্নাথ-বলভদ্র-সুভদ্রা!
কলকাতার ট্রামপ্রেমীদের সংগঠন ‘ট্রামযাত্রা’ এবং ‘ক্যালকাটা ট্রাম ইউজার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে অভিনব এই ‘ট্রাম-রথযাত্রা’।
যেমন রথ তেমন ট্রাম: গড়িয়াহাট থেকে শ্যামবাজার সফর
এই বিশেষ উদযাপনের জন্য একটি দু’কামরার ট্রামকে হুবহু জগন্নাথদেবের রথের আদলে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। ট্রামের গায়ে ও ভেতরে শোভা পাচ্ছে মহাপ্রভুর নানারকম ছবি ও কারুকার্য।
-
যাত্রাপথ: আজ সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে গড়িয়াহাট ডিপো থেকে যাত্রা শুরু করে এই বিশেষ ‘রথ-ট্রাম’। এরপর রাসবিহারী, ভবানীপুর ও এসপ্ল্যানেড (ধর্মতলা) হয়ে ট্রামটি পৌঁছাবে উত্তর কলকাতার শ্যামবাজার টার্মিনাসে।
-
ভেতরেই পুজো: ট্রামের কামরার ভেতরেই রাখা হয়েছে তিন ভাইবোনের মূর্তি এবং একটি ছোট প্রথাগত রথ। ট্রাম চলার মাঝেই ভেতরে চলছে জগন্নাথদেবের পুজো ও আরতি।
ঐতিহ্যের মেলবন্ধন: উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা
কলকাতার ট্রামকে বাঁচিয়ে রাখার এই মহৎ উদ্যোগে শামিল হয়েছেন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। এই অভিনব রথযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, পরিবহণ ও শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংহ এবং বিশিষ্ট নেত্রী ও অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়-সহ একাধিক গুণীজনের।
নতুন সরকারের ট্রাম নীতিকে স্বাগত উদ্যোক্তাদের
গত তিন দশক ধরে কলকাতায় ট্রাম সংরক্ষণ ও এর পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে লাগাতার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এই সংগঠনের সদস্যরা। বিগত সরকারের আমলে ট্রাম পরিষেবা কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাঁরা সোচ্চার হয়েছিলেন। তবে বর্তমান নতুন সরকার ট্রামকে নতুন রূপে ফিরিয়ে আনার যে আশ্বাস ও উদ্যোগ নিয়েছে, তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পরিবেশ ও ট্রামপ্রেমীরা।
সংগঠনের প্রবীণ সদস্য মহাদেব শী অত্যন্ত আবেগঘন সুরে বলেন, “শহরে ট্রাম বাঁচানোর লড়াই আমাদের দীর্ঘদিনের। নতুন সরকার আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে সম্পূর্ণ নতুন ও আধুনিক ধাঁচে কলকাতায় ট্রাম ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিবহণমন্ত্রীর এই উদ্যোগে আমরা অত্যন্ত খুশি। ট্রাম কলকাতার সচল ঐতিহ্য এবং এর সঙ্গে শহরবাসীর আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। একে কোনওভাবেই হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।”
বিদেশি প্রযুক্তির মেলবন্ধনে কলকাতার রাজপথে ট্রাম আবার তার পুরনো গৌরব ফিরে পাবে, রথের পুণ্যলগ্নে এই আশাতেই বুক বাঁধছেন কলকাতার ট্রামপ্রেমীরা।
