আজকের দিনেবাংলার আয়না

Jirat-Encounter : বারুইপুরের ঘটনা মনে করাল জিরাটের বিভীষিকা, এনকাউন্টারের পক্ষে মৃত ছাত্রীর বাবা !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিজস্ব প্রতিনিধি:- বারুইপুরে নাবালিকাকে অপহরণ করে ধর্ষণ-খুনের পর পুলিশি এনকাউন্টারের ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল ২০১৪ সালের হুগলির জিরাটের মর্মান্তিক ঘটনা। সেখানেও একইভাবে অপহরণ করে গণধর্ষণের পর খুন করা হয়েছিল বছর তেরোর এক ছাত্রীকে। সেই ঘটনার শিকার ছাত্রীর বাবা বলছেন, এ ধরনের অপরাধীর শাস্তি মৃত্যুই হওয়া উচিত।

২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর। শীতের সন্ধায় প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরছিল হুগলির জিরাট স্মৃতি মন্দির পাড়ার বছর তেরোর ছাত্রী। ত্রিবেণী টিস্যু বিদ্যাপীঠের ওই ছাত্রী গৃহশিক্ষিকার কাছে পড়তে গিয়েছিল। প্রতিদিনের মতো বাড়িতে ফোন করে জানিয়েছিল বাড়ি ফিরছে। বাবা রাস্তায় দাঁড়িয়েও ছিলেন, কিন্তু মেয়ে আর ফেরেনি।

অভিযোগ, রাস্তা থেকে তাকে অপহরণ করে হাটতলার একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নির্মম অত্যাচার। গণধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে খুন। দেহ বস্তাবন্দি করে ফেলে দেওয়া হয় ইটভাটার পিছনের খালে। বস্তায় ভরার সময় কোদাল দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয় পা। মৃত্যুর পরও ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। পরে পরিবারের কাছে মুক্তিপণও চাওয়া হয়।

ছাত্রীর পরিবার ও গ্রামবাসীরা খুঁজে না পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। বলাগড় থানার পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ও এলাকা থেকে সাইকেল এবং জুতো উদ্ধার করে। পরে খাল থেকে উদ্ধার হয় বস্তাবন্দি দেহ।

চুঁচুড়া আদালত এই বিরলতম ঘটনায় দুই অভিযুক্ত গৌরব মণ্ডল ও কৌশিক মালিককে ফাঁসির সাজা দেয়। অপর এক অভিযুক্ত নাবালক হওয়ায় তার বিচার হয় জুভেনাইল কোর্টে, পরে সে ছাড়া পায়। হাইকোর্টে আপিল হলে ফাঁসির সাজা কমিয়ে আজীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।

এই প্রসঙ্গে মৃত ছাত্রীর বাবা চিন্ময় মণ্ডল বলেন, “আমার মেয়ের সঙ্গে যা হয়েছিল বারুইপুরেও তাই দেখলাম। এই ধরনের অপরাধের একমাত্র শাস্তি মৃত্যু। মুখ্যমন্ত্রী বারুইপুরে যা করেছেন, এনকাউন্টার একদম সঠিক সিদ্ধান্ত। এরা ছাড়া পেলে সমাজের ক্ষতি।”

গ্রামবাসীরাও বলছেন, বারুইপুরের মতো ঘটনায় কঠোর শাস্তি দরকার। তবে কেউ কেউ মনে করছেন শুধু এনকাউন্টার নয়, সরকারের আরও কড়া আইন আনা উচিত। কারণ এই ধরনের অপরাধীরা বিকৃত মানসিকতার।

জিরাট থেকে বারুইপুর, এক দশক পেরিয়েও নাবালিকাদের উপর নৃশংসতা থামেনি। বিচার ব্যবস্থা ও কঠোর শাস্তির দাবি তাই আরও জোরালো হচ্ছে। এনকাউন্টার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হলেও, সমাজ ও প্রশাসন চাইছে দৃষ্টান্তমূলক আইন যাতে এই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি না হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *