আজকের দিনেভারত

কাগজের নোট বিদায়ের পথে? প্লাস্টিকের টাকা আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে আরবিআই,

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি: ছেঁড়া, ফাটা কিংবা জলে ভিজে নোট নষ্ট হওয়ার দিন কি এবার শেষ হতে চলেছে? ভারতীয় বাজারে এবার কাগজের নোটের পরিবর্তে প্লাস্টিক বা পলিমারের নোট আনার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক । সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, সম্প্রতি পটনা ও মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত আরবিআই বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলিতে এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নোট ছাপানোর ক্রমবর্ধমান খরচ কমানো, বাজারে নগদ টাকার বিপুল চাহিদা মেটানো এবং প্রচলিত কাগজের নোটের কম আয়ুর মতো একাধিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজছেন ব্যাঙ্ক কর্তারা। খুব শীঘ্রই পরীক্ষামূলকভাবে একটি ‘পাইলট প্রজেক্ট’ -এর মাধ্যমে দেশে প্লাস্টিকের নোট চালু করা হতে পারে।

 বর্তমানে কাগজের ১টি নোট ছাপতে কত খরচ হয়?

রিপোর্ট অনুযায়ী, নোটের মূল্য এবং তাতে ব্যবহৃত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে নোট প্রতি ছাপানোর খরচ আলাদা হয়। বেশি মূল্যের এবং হাই-সিকিউরিটি নোট তৈরিতে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজন হওয়ায় সেগুলির উৎপাদন খরচও বেশি।

কাগজের নোটের উৎপাদন খরচ (নোট প্রতি):

  • ₹১০-এর নোট: প্রায় ১.০১ টাকা ।
  •  ₹২০-এর নোট: প্রায় ১.০০ টাকা।
  •  ₹৫০-এর নোট: প্রায় ১.২২ টাকা।
  •  ₹১০০-এর নোট: ১.২০ টাকা থেকে ১.৫১ টাকা (বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভরশীল)।
  •  ₹২০০-এর নোট: প্রায় ২.৯৩ টাকা (সবচেয়ে ব্যয়বহুল কাগজের নোট) ।
  •  ₹৫০০-এর নোট: প্রায় ২.২৯ টাকা (সাম্প্রতিক খরচ কাটার পর) ।

প্লাস্টিকের নোট তৈরিতে কেমন খরচ হতে পারে?

পলিমার নোটগুলি সাধারণ তুলো-ভিত্তিক কাগজের পরিবর্তে একটি বিশেষ ধরনের ‘পলিপ্রোপাইলিন প্লাস্টিক সাবস্ট্রেট’ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। জাল নোট রুখতে এই নোটগুলিতে যুক্ত থাকে একাধিক অত্যাধুনিক নিরাপত্তা স্তর, যেমন— স্বচ্ছ উইন্ডো বা জানলা, ভেতরে থাকা হোলোগ্রাফিক উপাদান এবং বিশেষ প্রলেপ।

প্রাথমিক খরচের হিসেব: উন্নত প্রযুক্তির কারণে প্লাস্টিক বা পলিমার নোট তৈরির প্রাথমিক খরচ সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় প্রায় ২ থেকে ৩ গুণ বেশি হতে পারে। অর্থাৎ, বর্তমানে যে কাগজের নোট ছাপতে ১ থেকে ৩ টাকা খরচ হয়, সেই সমমূল্যের একটি প্লাস্টিক নোট তৈরি করতে শুরুতে নোট প্রতি ২ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

 কেন প্লাস্টিকের নোট চাইছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক?

প্রাথমিক খরচ বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদী সুবিধার কথা মাথায় রেখেই প্লাস্টিকের নোট আনার পক্ষে সওয়াল করছে আরবিআই। ভারতে কাগজের নোটের ব্যবহার অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সেগুলি দ্রুত নোংরা ও নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া আর্দ্রতা, ধুলোবালি এবং যত্রতত্র দুমড়ে-মুচড়ে রাখার ফলেও নোটের আয়ু কমে যায়।

  • নজিরবিহীন পরিসংখ্যান: শুধুমাত্র ২০২৫ অর্থবর্ষেই দেশে প্রায় ২৩.৮০ বিলিয়ন (২,৩৮০ কোটি) ছেঁড়া, নোংরা ও নষ্ট হয়ে যাওয়া কাগজের নোট বাজার থেকে তুলে নিয়ে ধ্বংস করতে হয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে।

  • পলিমার নোটের স্থায়িত্ব: প্লাস্টিকের তৈরি পলিমার নোট জলনিরোধক (Waterproof), এগুলি সহজে ছেঁড়ে না এবং অনেক বেশি টেকসই হয়। বিশ্বজুড়ে দেখা গিয়েছে, এই প্লাস্টিকের নোটগুলি প্রচলিত কাগজের নোটের তুলনায় প্রায় ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি স্থায়ী হয়।

ফলে উৎপাদন খরচ শুরুতে সামান্য বেশি হলেও, দীর্ঘমেয়াদে তা দেশের অর্থনীতি ও মুদ্রা ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *