ফলপ্রকাশের ২৬ দিন পর নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে অভিষেক, দলের অন্দরেই প্রশ্ন
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা : – বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের রাতে বেলেঘাটায় নিহত তৃণমূল কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়েকের পরিবারের সঙ্গে অবশেষে দেখা করলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনার ২৬ দিন পর শনিবার বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতে ওই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তিনি। পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্যও তুলে দেন বলে দলীয় সূত্রে খবর।
গত ৪ মে রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশিত হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি ২০৮টি আসন পেয়ে রাজ্যে প্রথমবার সরকার গঠন করে। তুলনায় তৃণমূল কংগ্রেসের ফলাফল বেশ খারাপ হয়। মাত্র ৮০টি আসন নিয়ে বিরোধী আসনে বসতে হয় তাদের। ওই রাতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বেলেঘাটা। স্থানীয় তৃণমূল কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়েককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। পরদিন সকালে বাড়ির সামনে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবার ও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই তাঁকে খুন করা হয়েছে। এটিই ভোট পরবর্তী হিংসার প্রথম ঘটনা বলে সেসময় দাবি করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও রাজ্যে ক্ষমতায় আসা নতুন বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাথমিক তদন্তে বিশ্বজিতের মৃত্যু আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। কোনও রাজনৈতিক হিংসার প্রমাণ মেলেনি বলে পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়। শনিবার বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতে নিহত কর্মীর মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানের সঙ্গে দেখা করেন অভিষেক। পরিবারের আর্থিক অবস্থা, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা ও মামলার অগ্রগতি নিয়ে খোঁজ নেন। ন্যায়ের লড়াইয়ে দল পাশে আছে এবং সমস্ত আইনি সহায়তা দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং পার্টি অফিসে আগুন লাগানোর একাধিক অভিযোগ উঠেছে। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন, এই দুঃসময়ে আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। জেলা নেতৃত্বকে এলাকায় এলাকায় গিয়ে কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
তবে ঘটনার ২৬ দিন পর অভিষেকের এই সাক্ষাৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে দলের অন্দরেই। ফলপ্রকাশের পর থেকেই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে প্রকাশ্যে তেমন দেখা যায়নি। দলের একাংশের প্রশ্ন, কর্মীদের এই বিপদের দিনে শীর্ষ নেতৃত্ব কেন এতদিন নিষ্ক্রিয় ছিলেন? কেন নিহত কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ২৬ দিন সময় লাগল? যদিও অভিষেক-ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই দেরি হয়েছে। তবে এই বিলম্ব নিয়ে বিতর্ক থামছে না।
