আজকের দিনেবাংলার আয়নারাজনীতি

‘ রাজনীতিটাই ছেড়ে দেব’, দলের ভরাডুবিতে আই প্যাক দায়ী করে বিস্ফোরক অনুব্রত

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পর পরই মুখ খুলছেন তাবড় তাবড় নেতারা। যারা এতদিন ‘দিদি’ ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত এবার কম বেশি প্রায় সকলেই বেসুরো। এবার প্রায় বিস্ফোরণ ঘটালেন বোলপুরের অনুব্রত মণ্ডল। ভোটের পরেই তৃণমূলের জয় নিয়ে রীতিমতো আত্মবিশাসী ছিলেন তিনি। কিন্তু রেজাল্ট বের হওয়ার পরেই আর তাঁর হাক ডাক বেশি শোনা যায়নি। অনুব্রতর মুখে ‘চড়াম চড়াম’ ‘গুড় বাতাসা’ সব নিমেষে হাওয়া। রেজাল্ট বের হওয়ার পর থেকে সংবাদমাধ্যমের সামনে তেমনভাবে মুখ খোলেননি তিনি। এবার এক জনপ্রিয় বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমের সামনে সেই অনুব্রতকেও বেসুরো আওয়াজ তুলতে শোনা গেল। সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সম্মান পেলে দল করব, না হলে রাজনীতি ছেড়ে দেব। একদম বিস্ফোরক অনুব্রত মণ্ডল। একসঙ্গে তৃণমূলের ভরাডুবির জন্য আই প্যাককে দায়ী করে অনুব্রত বলেন, এই ভরাডুবির জন্য আই প্যাক দায়ী। দলটাকে ডুবিয়েছে। পদ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে দুনিয়ার লোকের কাছে টাকা তুলেছে। ইউপি-বিহারের লোক বাংলার রাজনীতি কী বুঝবে। আই প্যাক আসার পর আজ তৃণমূল শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন কংগ্রেসকে চটানো ভুল হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মমতার ঘনিষ্ঠদের মধ্যে একদম প্রথম সারির নেতা ছিলেন অনুব্রত, দিদির প্রিয় কেষ্ট। বোলপুরে সভা করতে এলে মমতার সভামঞ্চে থাকতেন অনুব্রত মণ্ডল। গরু পাচার মামলায় তিহার জেলে ছিলেন অনুব্রত। সেই সময়ের পরেও প্রিয় কেষ্ট পাশে থেকেছেন দিদি। এবার সেই দিদিকেই নিশানা করে ক্ষোভ ঝড়ে পড়ল তাঁর গলায়। জেগে ঘুমোলে এই অবস্থা হবে বলে, ক্ষোভ ঝড়ে পড়ল তাঁর গলাতে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য খারাপও লাগছে তাঁর। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন একা হয়ে গেছেন। খারাপ লাগছে। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভালোবাসতাম। আমি কেন অনেকেই ভালোবাসতেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষদিকে কার পাল্লায় পড়লেন, আমি বুঝতে পারলাম না। ক্ষোভ ঝড়ে পড়ে অনুব্রতর গলাতে। বলেন, আমার হাতে শেষদিকে ঘি খাননি মমতা। এবার আমাকে ভোটের দায়িত্ব দেয়নি। কোর কমিটির বৈঠকে বললেন কোনও বিধায়ক ডাকলে আপনি যাবেন। আগ বাড়িয়ে ভোট করতে যাওয়ার আমার কী প্রয়োজন। অভিমান ঝড়ে পড়েছে কেষ্ট গলায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *