আজকের দিনেতিলোত্তমা

তারাতলা কাণ্ডে ফিরহাদ-সহ পুরকর্তাদের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: তারাতলা নির্মীয়মাণ গোডাউন বিপর্যয় নিয়ে এবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। টাকা নিতে নিতে তৃণমূল সরকার কলকাতাকে ‘মৃত্যুপুরী’ বানিয়ে ছেড়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। একই সঙ্গে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, উদ্ধারকাজ এবং তদন্তে কোনো রাজনীতি করা হবে না, তবে যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী— তারা সে প্রাক্তন মেয়রই হোন বা পুরসভার উচ্চপদস্থ ইঞ্জিনিয়ার, কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

তারাতলার এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশনে নিহত ও আহতদের আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করার পাশাপাশি তৃণমূল আমলের একাধিক বেনিয়ম ও দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

“তৎকালীন মেয়র ফিরহাদের সই আছে, রেহাই পাবেন না কেউ”

বিধানসভায় দাঁড়িয়ে নথিসহ বিস্ফোরক দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি তারাতলার ওই বিতর্কিত গোডাউন প্ল্যানে অনুমোদন দিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্ল্যানের অনুমোদনে আমিনুর শেখ (সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার), নির্মলেন্দু সরকার (অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার) এবং রঞ্জন দাসের (কার্যনির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার) সই রয়েছে। শুধু তাই নয়, এতে সই রয়েছে তৎকালীন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমেরও।”

কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “টাকা নিতে নিতে সিটি অফ জয় কলকাতাকে মৃত্যুপুরী বানিয়েছে তৃণমূল সরকার। এটা আপনাদের পাপের ফল। একাধিক দুর্ঘটনা থেকেও আপনারা কোনো শিক্ষা নেননি। এখানে প্রাক্তন মেয়রের সই আছে। কাউকে ছাড়া হবে না।” এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নেপথ্যে কোন ‘কালী’? 

কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাম ও তৃণমূল আমল জুড়ে চলা ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এর নেপথ্যে ‘কালী’ নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম জড়িয়ে বিস্ফোরক দাবি করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “কলকাতা পুরসভায় কী হয়েছে আমরা জানি না? কালীকে ধরলেই সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। কালী না বললে কোনো প্ল্যান পাস হয় না। এই কালীই বাইপাসের ধারে তৃণমূল ভবন বানাচ্ছে। ইতিমধ্যেই এফআইআর হয়েছে, কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

উদ্ধারকাজে সেনার তৎপরতা, পুরসভাকে তোপ

জরুরি পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য কলকাতা পুরসভার কোনো প্রস্তুতি বা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ছিল না বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “পুরসভা কোনো অত্যাধুনিক যন্ত্র কেনেনি। বাংলার ক্ষতি করে দিয়ে গিয়েছে। অবশেষে সেনা ডাকা হয়েছে এবং বিহার রেজিমেন্ট আধুনিক যন্ত্র নিয়ে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে।”

বক্তব্যের শেষে তারাতলা কাণ্ডে দ্রুত উদ্ধারকাজে হাত লাগানোর জন্য সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, কলকাতা পুলিশ এবং সিভিল ডিফেন্স-সহ সমস্ত উদ্ধারকারী দলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *