রামমন্দিরে কয়েকশো কোটির চুরি! শ্যালক-জামাইবাবুর কীর্তিতে চোখ কপালে আমজনতার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্কঃ ‘দিন আনি দিন খাই’ দশা থেকে রাতারাতি কোটিপতি! মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে যেখানে কালঘাম ছুটত, সেখানে আজ মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে বিলাসবহুল প্রাসাদ, খামারবাড়ি (ফার্মহাউজ) আর দামী গাড়ি। অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া কয়েকশো কোটি টাকার অনুদান চুরি করে এভাবেই ফুলেফেঁপে উঠেছিল এক চক্র। রামমন্দিরের এই মেগা কেলেঙ্কারির ঘটনায় আপাতত উত্তাল গোটা দেশ। তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যার মধ্যে অন্যতম মূল চক্রী শ্যালক-জামাইবাবু জুটি অনুকল্প মিশ্র এবং লবকুশ মিশ্র। আর তাঁদের এই রকেটের গতিতে বড়লোক হওয়ার গল্প শুনে চোখ কপালে উঠেছে সাধারণ মানুষের।
৩ বছরেই দিনমজুর থেকে প্রাসাদের মালিক!
তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। জানা গিয়েছে, অযোধ্যার বাসাভ গ্রামের বাসিন্দা অনুকল্প মিশ্র। প্রতিবেশীদের দাবি, বছরতিনেক আগেও চরম আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়ে দিন কাটত অনুকল্পের। কিন্তু গত কয়েক বছরে সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে দৃশ্যপট। গ্রামের ভাঙাচোরা বাড়ি আজ রূপান্তরিত হয়েছে এক বিশাল প্রাসাদে। শুধু তাই নয়, গ্রামের বাইরে বিঘার পর বিঘা জমি জুড়ে তৈরি হয়েছে ঝাঁ-চকচকে ফার্মহাউজ। এখানেই শেষ নয়, অযোধ্যা শহরে প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা খরচ করে আরও একটি বাড়ি কিনেছেন অনুকল্প, বুক করা হয়েছে নতুন স্করপিও এসইউভি গাড়িও।
শ্যালক-জামাইবাবুর জুটিতেই চলত লুটপাট?
হঠাৎ এত টাকার উৎস কী? পুলিশ সূত্রে খবর, বছরতিনেক আগে রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান গোনার কাজে যোগ দিয়েছিলেন অনুকল্প। টাকার পাহাড় দেখে লোভ সামলাতে পারেননি তিনি। এর কিছুদিন পরেই নিজের জামাইবাবু লবকুশ মিশ্রকেও এই কাজে ঢুকিয়ে দেন অনুকল্প। লবকুশ বর্তমানে ভাড়া বাড়িতে থাকলেও, সম্প্রতি তিনিও লাখ টাকা খরচ করে নতুন দামী বাইক কিনেছেন। প্রতিবেশীদের বয়ান এবং তাঁদের এই বিলাসবহুল জীবনযাত্রাই এখন পুলিশের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। প্রাথমিক অনুমান, রামমন্দিরের দানবাক্স থেকে সুপরিকল্পিতভাবেই কোটি কোটি টাকা সরিয়েছে এই শ্যালক-জামাইবাবু জুটি।
কাঠগড়ায় ট্রাস্ট! কেন আড়াল করার চেষ্টা?
এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের ভূমিকা। জানা গিয়েছে, মূল অভিযুক্ত অনুকল্পের ব্যক্তিগত এক সভায় স্বয়ং হাজির ছিলেন ট্রাস্টের প্রধান তথা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ঘনিষ্ঠ নেতা চম্পত রাই। সূত্রের দাবি, চম্পত রাইসহ ট্রাস্টের একাধিক শীর্ষকর্তা মন্দিরের অনুদান চুরির বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও কেন এতদিন পুলিশে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলো না? কেন এই বিপুল অঙ্কের চুরি চেপে রাখার চেষ্টা করা হলো? কার স্বার্থে বা কাকে বাঁচাতে এই নীরবতা—তা নিয়ে এখন উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।
গায়েব সাড়ে ৩ হাজার কোটি! উধাও রুপোর ভূষূণ্ডির কাক-ও
বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট-এর রিপোর্টে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, রামমন্দিরে এযাবৎ নগদ প্রণামী জমা পড়েছে প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকারও বেশি। এর পাশাপাশি এসেছে অগণিত সোনা ও রুপোর গয়না। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বিশাল ধনরাশির একটি বড় অংশের কোনও হদিশ মিলছে না খোদ মন্দিরের খাতায়! নগদ টাকা এবং গয়না চুরির পাশাপাশি মন্দিরের হেফাজত থেকে দানে পাওয়া অত্যন্ত মূল্যবান রুপোর তৈরি ‘ভূষূণ্ডির কাক’-ও গায়েব হয়ে গিয়েছে বলে সূত্রের খবর।
রামের নামে আসা ভক্তদের ভক্তি আর আবেগের টাকা এভাবে লুঠ হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ পুণ্যার্থীরা। এই চক্রের পিছনে আর কোন কোন বড় মাথার হাত রয়েছে, এখন সেটাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
