অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি, গ্রেফতার বেহালার ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: অন্তঃসত্ত্বা মহিলার পেটে লাথি, পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি ও চরম অত্যাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন বেহালার ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর অঞ্জন দাস এবং তাঁর সহযোগী ভোলা সরকার। রাজ্য সরকার পরিবর্তনের পর সম্প্রতি পর্ণশ্রী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আক্রান্ত ওই মহিলা। তার ভিত্তিতেই তদন্তে নেমে পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করেছে।
এই গ্রেফতারির পর প্রাক্তন কাউন্সিলরকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। হাসপাতাল চত্বরে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ধরে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখান সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা।
রাজনৈতিক আক্রোশ ও নারকীয় অত্যাচারের অভিযোগ
অভিযোগকারিণী বিজয়া ঘোষের দাবি, ২০২০ সালে তাঁর পরিবার বিজেপির সমর্থক হওয়ার কারণে রাজনৈতিক আক্রোশের শিকার হতে হয়েছিল তাঁদের। তৎকালীন ক্ষমতাশালী কাউন্সিলর অঞ্জন দাস ও তাঁর অনুগামীরা তাঁদের ওপর একাধিকবার হামলা চালায়। বিজয়া দেবীর অভিযোগ:
”আমি যখন অন্তঃসত্ত্বা ছিলাম, তখন অঞ্জন দাস নিজে এসে আমার পেটে লাথি মারেন। শুধু তাই নয়, আমাদের বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হতো।”
মানসিক অবসাদ ও শ্বশুরের আত্মহত্যার চেষ্টা
অভিযোগকারিণীর দাবি, অঞ্জন দাস ও তাঁর সহযোগীদের লাগাতার হুমকি ও অত্যাচারের কারণে গোটা পরিবার চরম মানসিক অবসাদের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, সেই তীব্র মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তাঁর শ্বশুরমশাই আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন। রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অবশেষে সাহস জুগিয়ে পর্ণশ্রী থানার দ্বারস্থ হন বিজয়া ঘোষ।
হাসপাতাল চত্বরে ধুন্ধুমার
গ্রেফতারির পর নিয়মমাফিক অঞ্জন দাসকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বেহালার বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে আসে পর্ণশ্রী থানার পুলিশ। সেই খবর ছড়াতেই হাসপাতালের বাইরে শয়ে শয়ে সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মীরা জড়ো হন। পুলিশের গাড়ি আসামাত্রই চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রাক্তন কাউন্সিলরকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়া হতে থাকে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও পর্ণশ্রী থানার পুলিশ দ্রুত তৎপরতার সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তদের সরিয়ে নিয়ে যায়।
আক্রান্ত পরিবারের স্পষ্ট দাবি, “অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রভাবশালী সাধারণ মানুষের ওপর এভাবে অত্যাচার করার সাহস না পায়।” ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
