FIFA Worldcup 26 : রেকর্ড বুকে মেসি! পেনাল্টি নষ্ট করেও বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল, আর্জেন্টিনাকে নকআউটে তুললেন এলএম টেন !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, ডালাস:- পেনাল্টি ফস্কালেন, তবু থামলেন না। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৭ গোল করে মিরোস্লাভ ক্লোজেকে টপকে গেলেন লিওনেল মেসি। গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা। জোড়া গোল করে ফের দলের ত্রাতা এলএম টেন।
সোমবার ডালাসে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে নামে স্কালোনির আর্জেন্টিনা। রেকর্ডের জন্য মেসির দরকার ছিল একটা গোল। ৯ মিনিটেই সুযোগ চলে আসে। বক্সে লাউতারো মার্তিনেজ়কে ফাউল করায় ভার-এর সাহায্যে পেনাল্টি দেন রেফারি। গোটা স্টেডিয়াম গোলের অপেক্ষায়। কিন্তু ডান পোস্টে মারা মেসির দুর্বল শট আটকে দেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লেগার। ১৯ মিনিটে ফের শ্লেগারকে একা পেয়েও তাঁর গায়ে মারেন মেসি।
ততক্ষণে পাল্টা চাপ বাড়াচ্ছিল অস্ট্রিয়াও। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। তবে আর্জেন্টিনার বক্সে বড় বিপদ তৈরি করতে পারেনি তারা। দাপট ছিল স্কালোনির দলেরই। পাসিং ফুটবলে প্রতিটি আক্রমণে পরিকল্পনার ছাপ।
মাহেন্দ্রক্ষণ আসে ৩৮ মিনিটে। প্রতি আক্রমণে আলমাডা বল নিয়ে ফাইনাল থার্ডে ঢুকে বাঁ দিকে মেদিনাকে পাস দেন। তাঁর ক্রস থেকে বক্সের মাঝে বল পেয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করেন মেসি। এ বারের বিশ্বকাপে চতুর্থ, সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ১৭তম গোল। ভাঙলেন ক্লোজের ১৬ গোলের রেকর্ড। ১-০ এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
গোল খেয়ে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে অস্ট্রিয়া। ম্যাচের মেজাজ চড়তে থাকে। বাড়ে ফাউল, ছোটখাটো উত্তেজনা। কড়া হাতে পরিস্থিতি সামলান রেফারি। প্রথমার্ধে আর গোল হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়াতে একের পর এক আক্রমণ শানায় আর্জেন্টিনা। ৬৪ মিনিটে নিকোলাস গঞ্জালেজ় ও ইউলিয়ান আলভারেজ়কে নামান স্কালোনি। মাঝেমধ্যে খেলার গতি কমিয়ে নিয়ন্ত্রণ রাখে নীল-সাদা ব্রিগেড। ডালাসের গরম বা নকআউটের জন্য শক্তি বাঁচানোই কারণ হতে পারে।
অস্ট্রিয়া লড়াই করলেও বক্সে আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারদের জায়গা দেননি তাদের ডিফেন্ডাররা। শেষ দিকে মেসির দ্বিতীয় গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
পেনাল্টি নষ্ট, দুটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া — তবু দিনের শেষে রেকর্ড আর জোড়া গোল মেসির নামেই। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে আর্জেন্টিনাকে নকআউটে তুললেন তিনি। তবে প্রতিপক্ষের জমাট ডিফেন্স ভাঙতে আক্রমণে আরও বৈচিত্র্য আনতে হবে স্কালোনির দলকে। নইলে বড় ম্যাচে সমস্যায় পড়তে হতে পারে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
