FIFA Worldcup 26 : মেসি-জাদুতে ইংল্যান্ড কুপোকাত! ২-১ কামব্যাকে ফাইনালে আর্জেন্টিনা !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, আটলান্টা :- রেফারিং বিতর্ক নয়, রক্ত-ঘাম এক করে দেওয়া লড়াই। ফুটবলের জন্ম যেখানে, সেই ইংল্যান্ডকেই তাদেরই মাটিতে নাস্তানাবুদ করল আর্জেন্টিনা। ২-১ গোলের অবিশ্বাস্য কামব্যাকে বিশ্বকাপের ফাইনালে লিওনেল মেসিরা। সঙ্গে মাথার উপর মারাদোনার আশীর্বাদ, পায়ে মেসির জাদু।
আটলান্টা স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই যুদ্ধ। প্রথমার্ধে ফুটবলের চেয়ে কুস্তি বেশি। ফাউল ৭-১২। গোল লক্ষ্য করে শট হাতে গোনা। কোচ লিওনেল স্কালোনির প্ল্যান একটাই – মেসিকে ছেড়ে দাও, আর ইংল্যান্ডকে খেলতে দিও না। তাই ডি’পলের জায়গায় লড়াকু সিমিওনেকে নামানো। অন্যদিকে টুখেলের ট্যাকটিক্স ছিল মেসিকে আটকানো। এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে পুলিশম্যান মার্কিংয়ে রাখা হলেও মাঝেমধ্যে তাকে কাটিয়ে বেরিয়ে গিয়েছেন মেসি।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫ মিনিটে ছন্দপতন। লিসান্দ্রো মার্টিনেজের ভুল ক্লিয়ারেন্সে মর্গানের ক্রস থেকে গোল করেন অ্যান্থনি গর্ডন। ১-০ এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। এরপর পুরো ডিফেন্সে তালা লাগিয়ে দেয় টুখেলের দল। পিকফোর্ড ৬৮, ৭৫, ৮৪ মিনিটে পরপর ৩টি দুরন্ত সেভ করেন।
কিন্তু ৩৯ বছরের “বুড়ো” মেসি জেগে উঠলে তাকে রোখে কার সাধ্যি? ৮৫ মিনিটে দূরপাল্লার বুলেট শটে সমতা ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। গোটা স্টেডিয়াম কেঁপে ওঠে।
আসল খেলা তখনও বাকি। অতিরিক্ত সময়ে ডানদিক থেকে মেসির মাপা ক্রস। একদম পারফেক্ট প্লেসমেন্টে দাঁড়িয়ে ছিলেন লাউতারো মার্টিনেজ। ঠান্ডা মাথায় জালে জড়িয়ে দেন বল। ২-১। ম্যাচ শেষ।
দুটি গোলেরই অ্যাসিস্টদাতা লিওনেল মেসি। গোল না পেলেও তিনি ছিলেন মাঠজুড়ে। পরিসংখ্যান নয়, আবেগ দিয়ে ম্যাচটা জিতল আর্জেন্টিনা।
এখন সামনে ফাইনাল। ১৯ জুলাই রাতে মুখোমুখি স্পেন। একদিকে স্পেনের মাপা, টিকিটাকা ফুটবল। অন্যদিকে “ঈশ্বর” মেসি আর তার দামাল সৈন্যরা। বিশ্বসেরার তকমা ধরে রাখতে শেষ লড়াইটা বাকি। “হারের আগে হারব না” – এই মন্ত্র নিয়েই মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা।
