আজকের দিনেবাংলার আয়না

বর্ষার শুরুতেই বিপর্যয় উত্তরবঙ্গে, মালবাজারে জলমগ্ন রাস্তা ও চা বাগান

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, মালবাজার:- দক্ষিণবঙ্গের মানুষ যখন তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করছেন, তখন উত্তরবঙ্গের চিত্র একেবারেই আলাদা। বর্ষার শুরুতেই লাগাতার বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ এলাকা। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজার ব্লকের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টির জেরে নদী, নালা ও পাহাড়ি ঝরনা গুলির জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়েছেন চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা। টানা বৃষ্টির জেরে চা বাগানের বিস্তীর্ণ এলাকা, শ্রমিকদের আবাসন এবং নিউ মাল থেকে মালবাজারগামী জাতীয় সড়কের একাংশ জলের নিচে চলে গিয়েছে। ফলে প্রতিদিনের যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জলমগ্ন রাস্তা দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে।

এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধুমাত্র অতিবৃষ্টিই নয়, এই জলাবদ্ধতার পিছনে রয়েছে অপরিকল্পিত নির্মাণকাজও। রাজার চা বাগান সংলগ্ন এলাকায় একটি নতুন সেতুর কাজ চলছে। সেই কারণে তৈরি করা হয়েছে একটি অস্থায়ী ডাইভারশন। স্থানীয়দের দাবি, ওই ডাইভারশনের ফলে বৃষ্টির জল স্বাভাবিক পথে বের হতে পারছে না। ফলে জল জমে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।

স্থানীয়দের বক্তব্য, বর্ষা শুরুর আগে যদি যথাযথ নিকাশি ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হতো, তাহলে হয়তো এত বড় সমস্যা সৃষ্টি হতো না। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা জল জমার আশঙ্কার কথা প্রশাসনকে জানিয়েছেন কিন্তু প্রশাসন কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। কিন্তু সেই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব না দেওয়ার ফলেই আজ সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েকদিনও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে জলস্তর আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। কারণ প্রতিটি নতুন বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে উদ্বেগ, আর দুর্ভোগের বোঝা আরও ভারী হয়ে উঠছে উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *