আম্বেদকরের বই হাতে বিমানবন্দরে অভিজিৎ,নজিরবিহীন নিরাপত্তায় ৪টি বর্ডার সিল
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,নয়াদিল্লি: সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET-UG 2026)-এর প্রশ্ন ফাঁস এবং সিবিএসই (CBSE)-র মূল্যায়নে মারাত্মক কারচুপির অভিযোগে দেশের রাজধানী আজ কার্যত অগ্নিগর্ভ। এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তরমন্তরে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। আর সেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে আজ, শনিবার সাতসকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে সোজা নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা তথা যুবনেতা অভিজিৎ দিপকে।
নজর কাড়ল হাতের বই: সমর্থকদের বিশেষ বার্তা
৩০ বছর বয়সি এই যুবনেতা বিমানবন্দরে পা রাখতেই সবচেয়ে আগে নজর কেড়েছে তাঁর হাতে সগৌরবে ধরা থাকা ভারতীয় সংবিধানের জনক ড. বি আর আম্বেদকরের আত্মজীবনী। সংগঠনের পক্ষ থেকে গাইডলাইন জারি করে বলা হয়েছিল যে, আন্দোলনের মাঠে প্রত্যেকে যেন একটি করে বই নিয়ে আসেন। দলের সুপ্রিমো নিজে বিমানবন্দরে আম্বেদকরের বই হাতে নেমে সমর্থকদের সেই বার্তাই হাতেনাতে করে দেখালেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মিলল আইনি অনুমতি, রাজপথে নামল ছাত্রদের ঢল
আন্দোলনকারীদের জন্য আজ সকাল সকালই মিলেছে একটি বড়সড় স্বস্তির খবর। যন্তরমন্তরের মতো স্পর্শকাতর রাজনৈতিক এলাকায় সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে ধর্না ও অবস্থান বিক্ষোভ প্রদর্শন করার জন্য দিল্লি পুলিশের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ও আইনি অনুমতি মিলেছে। গ্রিন সিগন্যাল মিলতেই দিল্লির রাজপথে দেশজুড়ে আসা হাজার হাজার পড়ুয়া ও যুবকদের ঢল নামতে শুরু করেছে।
দুর্গে পরিণত মধ্য দিল্লি: মোতায়েন ৪০ কোম্পানি আধাসেনা
অনলাইন দুনিয়া কাঁপিয়ে রাজপথে নামা এই যুব সংগঠনের প্রথম অন-গ্রাউন্ড মেগা সমাবেশকে কেন্দ্র করে দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীন স্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে:
-
প্যারামিলিটারি ফোর্স: আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লি পুলিশকে সাহায্য করার জন্য প্রায় ৪০ কোম্পানি আধাসেনা বা প্যারামিলিটারি ফোর্স মোতায়েন করা হয়।
-
কড়া নাকা চেকিং: দিল্লির প্রধান প্রধান রেল স্টেশন, আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনাল (ISBT) এবং হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের মতো প্রতিবেশী রাজ্যগুলির সংযোগকারী সমস্ত বর্ডার এন্ট্রি পয়েন্টে ব্যারিকেড দিয়ে কড়া নাকা চেকিং চালানো হয়।
-
মাঠে দুঁদে আইপিএস অফিসাররা: যন্তরমন্তরের বিক্ষোভ স্থলের নিরাপত্তার দায়িত্বে সরাসরি মাঠে নামানো হয়েছে জয়েন্ট কমিশনার, ডিসিপি (DCP), অ্যাডিশনাল ডিসিপি এবং এসিপি পদমর্যাদার শীর্ষ স্তরের কর্মকর্তাদের।
সুপ্রিম কোর্টের কটাক্ষ থেকে যেভাবে জন্ম নিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’
গত মাসে সুপ্রিম কোর্টের একটি মামলার শুনানির সময় মাননীয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই বলে কটাক্ষ করা হয়েছিল। দেশের ক্ষুব্ধ যুবসমাজ সেই অবমাননাকর শব্দকেই নিজেদের হাতিয়ার বানিয়ে সম্পূর্ণ ব্যঙ্গাত্মক ও স্যাটায়ারধর্মী উপায়ে এই প্ল্যাটফর্মটি গড়ে তোলে।
গত কয়েক সপ্তাহে তা সোশ্যাল মিডিয়ার পরিধি ছাড়িয়ে আজ ভারতের অন্যতম বৃহৎ ভার্চুয়াল সংগঠনে পরিণত হয়েছে। ইনস্টাগ্রামে ২২ মিলিয়নেরও বেশি ফলোয়ার থাকা এই যুব ফ্রন্ট আজ নিট প্রশ্ন ফাঁস এবং সিবিএসই-র ওএসএম পোর্টালের কারচুপির বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর অধিকার ছিনিয়ে নিতে দিল্লির রাজপথে বুক চিতিয়ে লড়াইয়ে নেমেছে।
