আজকের দিনেতিলোত্তমাবাংলার আয়না

‘ভূত’ তাড়াতে খাদ্যসাথীতে স্ক্যানার! ১৫ জুনের মধ্যে অ্যাকশন

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- খাদ্যসাথী প্রকল্পে ‘অযোগ্য’ ও ‘ভূতুড়ে’ উপভোক্তা বাছতে বড় অভিযান শুরু করছে রাজ্য সরকার। এসআইআর-এ বাদ পড়া ৬৩ লক্ষ ভোটারের রেশন কার্ড নিষ্ক্রিয় করার টার্গেট নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর খাদ্য ও সরবরাহ দফতর। মূল লক্ষ্য প্রতিবছর বিপুল সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধ করা।

চলতি বছর ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর উপর ভিত্তি করে এই অভিযান চলবে। সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যে ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে তাঁদের চিহ্নিতকরণ করে রেশন কার্ড নিষ্ক্রিয় করা হবে। কারণ ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে তিনি রাজ্যের বৈধ নাগরিক হিসেবে খাদ্যসাথীর সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন, এমনটাই মনে করছে দফতর। তবে এখানে কিছু ছাড়ও রাখা হয়েছে। যাঁরা সিএএ-র অধীনে নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন এবং যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার পর এসআইআর ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন তাঁদের রেশন কার্ড এখনই বাতিল হচ্ছে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আগের মতোই রেশন পাবেন। ফলে প্রকৃত দাবিদাররা যাতে হঠাৎ বিপাকে না পড়েন, সেটা নিশ্চিত করতে চাইছে সরকার।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম ধাপে এসডিও ও বিডিও-রা তাঁদের নিজ নিজ আওতাধীন এলাকা থেকে এসআইআর-এ বাদ দেওয়া ভোটারদের তালিকা তৈরি করে খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগে পাঠাবেন। দ্বিতীয় ধাপে খাদ্য দফতরের কর্তা ও ইন্সপেক্টররা সেই তালিকা ধরে ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে সরেজমিনে যাচাই করবেন। নাম সত্যিই বাদ গিয়েছে কি না, ওই ব্যক্তি বেঁচে আছেন কি না, বর্তমানে কোথায় থাকেন, সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হবে। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শেষ হলে অযোগ্যদের রেশন কার্ড নিষ্ক্রিয় করা হবে। আমরা জুন মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে গোটা কাজ শেষ করতে চাইছি।” ডেডলাইন বেঁধে দেওয়ায় জেলা স্তরে তৎপরতা তুঙ্গে।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, প্রায় দু’কোটি মানুষ খাদ্যসাথী প্রকল্পের অধীনে বিনামূল্যে রেশন পান। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চালাতে সরকার কৃষকদের থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করতে বছরে প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকা ব্যয় করে। এদিকে রাজ্যের রাজস্বের হাল খুব একটা ভালো নয়। জিএসটি ও অন্যান্য খাতে আয় বাড়লেও খরচের বহর সামলানো কঠিন হচ্ছে। এখনই সেই রাজস্ব একলাফে অনেকটা বাড়ানো সম্ভবও নয়। তাই সরকার বিভিন্ন প্রকল্পে অপব্যয় রুখতে মরিয়া। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক বলেন, “সন্দেহ করা হচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে এই প্রকল্পগুলোর অধীনে বিপুল পরিমাণ অর্থের অপব্যবহার হয়েছিল। মৃত ব্যক্তি, ভিনরাজ্যে চলে যাওয়া মানুষ, এমনকি অস্তিত্বহীন নামেও রেশন তোলা হয়েছে। তাই সকল রেশন কার্ড যাচাই করা আবশ্যক।” দফতরের অনুমান, শুধু ভূতুড়ে কার্ড বাদ দিলেই বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা বাঁচানো সম্ভব।

ভোটার তালিকা সংশোধনকে হাতিয়ার করে এবার রেশন দুর্নীতির শিকড় উপড়াতে চাইছে শুভেন্দু অধিকারীর দফতর। ১৫ জুনের ডেডলাইনের মধ্যে ৬৩ লক্ষ কার্ডের ভবিষ্যৎ ঠিক হবে। এই অভিযান সফল হলে রাজকোষে বড় স্বস্তি আসবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *