ভুয়ো কাগজ দেখিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে কোটি কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, হাওড়া: জমির ভুয়ো নথিপত্র এবং পুরসভার জাল প্ল্যান দেখিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে জালিয়াতির বড়সড় পর্দাফাঁস করল কলকাতা পুলিশ। এই প্রতারণা কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হাওড়া থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের আধিকারিকেরা। ধৃতদের নাম—মানস রায়, তাপস রায় এবং তন্ময় রায়। ধৃতদের বাড়ি থেকে তল্লাশি চালিয়ে নগদ প্রায় দেড় কোটি টাকা উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। আজ, বুধবার ধৃতদের কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়।
২০১৮ সাল থেকে চলছিল জালিয়াতির তদন্ত
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রতারণার সূত্রপাত ২০১৮ সাল নাগাদ। সে সময় ব্যবসার নাম করে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় চার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল। জামিনদার বা বন্ধক হিসেবে ব্যাঙ্কের কাছে একাধিক জমির কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখে জানতে পারে, জমা দেওয়া জমির সমস্ত কাগজপত্রই সম্পূর্ণ ভুয়ো। ঋণের টাকা হাতানোর জন্যই এই জালিয়াতি করা হয়েছিল।
এরপরই ২০১৮ সালে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরফে কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ গঠন করা হয়েছিল।
জাল পুরসভার প্ল্যান ও হাওড়ায় হানা
তদন্তে নেমে সিটের আধিকারিকেরা জানতে পারেন, প্রতারকেরা শুধু জমির কাগজই নয়, হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের একটি ভুয়ো ও জাল ভবন অনুমোদন পরিকল্পনাও ব্যাঙ্কে জমা দিয়েছিল।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তদন্তকারীরা হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় অভিযান চালান। সেখান থেকেই প্রথমে মূল অভিযুক্ত মানস রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের বাকি দুই পান্ডা তাপস ও তন্ময়কেও পাকড়াও করা হয়। ধৃতদের বাড়িতে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় পুলিশ আধিকারিকদের। সেখান থেকে থরে থরে সাজানো মোট দেড় কোটি টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়।
রাজনৈতিক যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ
পুলিশি জেরায় জানা গিয়েছে, মূল অভিযুক্ত মানস রায় এর আগেও একাধিক বড়সড় প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তার সেই পুরোনো কীর্তিগুলোও এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, এত বড় জালিয়াতি এবং কোটি কোটি টাকার লেনদেনের নেপথ্যে রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দলের কোনো নেতার বা প্রভাবশালী যোগসূত্র ছিল কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
আজ ধৃতদের ব্যাঙ্কশাল আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। এই চক্রের সাথে আর কারা যুক্ত এবং ঋণের বাকি টাকা কোথায় সরিয়ে ফেলা হয়েছে, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। এই গ্রেপ্তারি এবং বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় হাওড়া ও কলকাতা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
