জানেন কি, জগন্নাথ দর্শনেই খণ্ডাবে শনি-রাহুর দশা ও জটিল গ্রহদোষ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- সনাতন ধর্মে শ্রীক্ষেত্র ধাম কেবল মুক্তির সোপান নয়, বরং আধ্যাত্মিক সাধকদের মতে এটি এক মহাজাগতিক শক্তির আধার। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জগতের নাথ জগন্নাথদেবের শ্রীবিগ্রহের মধ্যেই নিহিত রয়েছে নবগ্রহের স্থিতি। তাই সঠিক বিধি মেনে দর্শন করলে কুণ্ডলীতে থাকা অশুভ গ্রহের ফেরে নাজেহাল মানুষেরাও অনায়াসে মুক্তি পেতে পারেন। জীবনের জটিল গ্রহদোষ কাটিয়ে সৌভাগ্য ফেরাতে মহাপ্রভুর শ্রীবিগ্রহের কোন অংশে দৃষ্টি নিবদ্ধ করবেন, তা নিয়ে শাস্ত্রে বিশেষ নিদান দেওয়া হয়েছে।
মহাপ্রভুর নয়ন দর্শন: রবি ও চন্দ্রের অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তি
জ্যোতিষশাস্ত্রে সূর্য (রবি) ও চন্দ্রকে মানুষের ‘চক্ষু’ বা দৃষ্টির প্রতীক বলা হয়। জন্মছকে এই দুই রাজকীয় গ্রহ নীচস্থ বা অশুভ অবস্থানে থাকলে মানুষের মনের জোর ও আত্মবিশ্বাস তলানিতে ঠেকে। এর ফলে জাতক তীব্র সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন।
-
শাস্ত্রীয় সমাধান: এই দশা কাটাতে জগন্নাথদেবের ডাগর ডাগর চোখের দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করার বিধান রয়েছে পুরাণে। মনে করা হয়, তাঁর বিশাল চক্ষুর মধ্যেই ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত তেজ ও অমৃতধারা লুকিয়ে আছে। একাগ্র চিত্তে তাঁর নয়ন দর্শন করলে রবি ও চন্দ্রের দোষ কেটে মনে স্থিরতা ও আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে।
শ্রীচরণ দর্শন: শনি, রাহু ও কেতুর কুদৃষ্টি নাশ
শনি, রাহু ও কেতু— এই তিন ছায়াগ্রহ বা পাপগ্রহের কুনজর পড়লে মানুষের জীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। আকস্মিক দুর্ঘটনা, দীর্ঘস্থায়ী রোগ বা আইনি জটিলতায় জেরবার হতে হয় জাতককে।
-
শাস্ত্রীয় সমাধান: এই তিন দুঁদে গ্রহের নেতিবাচক প্রভাব কাটানোর অব্যর্থ দাওয়াই লুকিয়ে আছে জগন্নাথদেবের শ্রীচরণে। কথিত আছে, অশুভ গ্রহের প্রকোপ থেকে বাঁচতে ভক্তকে জগন্নাথের রাঙা পায়ে নিজেকে সঁপে দিতে হয়। তাঁর পাদপদ্ম দর্শনে কালসর্প দোষ কিংবা শনির সাড়ে সাতির প্রভাবও অনেকাংশে হ্রাস পায়।
নাভিকুণ্ড দর্শন: বৃহস্পতি ও শুক্রের কৃপায় ঐশ্বর্য ও দাম্পত্য সুখ
দেবগুরু বৃহস্পতি ও দৈত্যগুরু শুক্রের অশুভ অবস্থানে মানুষের ভাগ্যের চাকা থমকে যায়। বৃহস্পতি প্রতিকূল হলে শিক্ষা, অর্থ ও সব কাজে বাধা আসে; অন্যদিকে শুক্রের দোষে নষ্ট হয় দাম্পত্য সুখ ও মানসিক শান্তি।
-
শাস্ত্রীয় সমাধান: শাস্ত্র মতে, জগন্নাথের নাভিকুণ্ডলী দর্শনে এই দুই শুভ গ্রহের শুভত্ব পুনরায় জাগ্রত হয়। সংসারের আর্থিক অভাব-অনটন মেটাতে, দাম্পত্য কলহ দূর করতে ও আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে এই দর্শন অত্যন্ত ফলদায়ী।
পরিশেষে বলা যায়, কলিযুগে জগন্নাথ দর্শনই সমস্ত সংকটের পরম মহৌষধ। তবে শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, কেবল বাহ্যিক দৃষ্টিতে চাক্ষুষ করাই যথেষ্ট নয়; মনের গহন কোণ থেকে গভীর ভক্তি ও বিশ্বাস নিয়ে তাকালে তবেই গ্রহের ফের কাটিয়ে শ্রীক্ষেত্রের করুণা লাভ সম্ভব।
