বসিরহাটে ভোট-পরবর্তী হিংসা: সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ থানার ওসি-সহ ৫ পুলিশকর্মী
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,বসিরহাট: লোকসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট। দুই রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হলেন খোদ ন্যাজাট থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক ভরত প্রসূন পুরকায়েত। পুলিশের ওপর এই হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও এক পুলিশকর্মী, একজন মহিলা কনস্টেবল এবং দু’জন সিআরপিএফ জওয়ান। মঙ্গলবার রাতে ন্যাজাটের রাজবাড়ি এলাকায় এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটেছে।
ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে রাজবাড়ি এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়েই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় পৌঁছায় ন্যাজাট থানার ওসি-র নেতৃত্বাধীন বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। অভিযোগ, পুলিশ পৌঁছানো মাত্রই দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ব্যাপক বোমাবাজি ও গুলির লড়াই।
আক্রান্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী
উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝখানে পড়ে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন পুলিশ আধিকারিকরা। পুলিশ জানিয়েছে:
-
ভরত প্রসূন পুরকায়েত (OC, ন্যাজাট): ওসির হাতে গুলি লেগেছে।
-
ভাস্বত গোস্বামী: রাজবাড়ি ফাঁড়ির এই কর্মীও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
-
অন্যান্য আহত: একজন মহিলা পুলিশ কনস্টেবল এবং দুই সিআরপিএফ জওয়ান জখম হয়েছেন।
আহতদের প্রথমে মিনাখাঁ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় রাতেই তাঁদের কলকাতার একটি সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও পুলিশি তৎপরতা
এক সময় সন্দেশখালির নেতা শেখ শাহজাহানের ‘গড়’ বলে পরিচিত এই এলাকায় এখনও থমথমে পরিবেশ। বুধবার ভোররাত থেকেই এলাকায় শুরু হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনীর রুট মার্চ। তল্লাশিতে নেমে এলাকা থেকে একাধিক গুলির খোল উদ্ধার করেছে পুলিশ। “পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর হামলার এই ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দোষীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।” — জেলা পুলিশ প্রশাসন
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ভোটের ফলপ্রকাশের ঠিক পরের দিনই এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘিরে বঙ্গ রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষই একে অপরের দিকে আঙুল তুলছে। তবে রাজবাড়ি এলাকায় যেভাবে পুলিশের ওপর গুলি চালানোর সাহস দেখিয়েছে দুষ্কৃতীরা, তাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আপাতত এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য চলছে কড়া নজরদারি।
