আজকের দিনেবাংলার আয়নারাজনীতি

Debipur-TMC : দেবীপুরে প্রধানকে দিয়ে জোর করে পদত্যাগের মুচলেখা, তবু বহাল তৃণমূল নেতা: প্রশাসনের নীরবতায় বাড়ছে ধোঁয়াশা !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিজস্ব প্রতিনিধি:-মথুরাপুর-১ ব্লকের দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে রীতিমতো নাটক। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান আমীর হোসেনকে জোর করে প্রধান পদ ছাড়ার মুচলেখা লিখিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়েছে এলাকায়। তবে চমকের বিষয়, সেই মুচলেখার পরও প্রধান পদে বহাল রয়েছেন তিনি। প্রশাসনও মুচলেখার ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ করেনি।

স্থানীয় সূত্রে খবর, কয়েক দিন আগেই আমীর হোসেনকে দিয়ে জোর করে সাদা কাগজে প্রধান পদ ছাড়ার মুচলেখা লিখিয়ে নেওয়া হয়। কে বা কারা এই চাপ তৈরি করেছে, তা নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ এলাকাবাসী। অভিযোগ, পঞ্চায়েতের অন্দরেই ক্ষমতার দ্বন্দ্বের জেরে এই ঘটনা। তবে মুচলেখা লেখানোর পরও বাস্তবে তার কোনও প্রতিফলন দেখা যায়নি। নিয়ম অনুযায়ী পদত্যাগপত্র জমা পড়লে বা অনাস্থা এলে তবেই প্রধান পদ খালি হয়। এ ক্ষেত্রে তেমন কিছুই হয়নি।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মুচলেখার আইনি বৈধতা নেই। তাই তার ভিত্তিতে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিডিও অফিসও বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ করেনি। প্রশাসনের এই নীরব ভূমিকা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। জোর করে মুচলেখা লেখানোর অভিযোগ ওঠার পরও কেন তদন্ত হচ্ছে না, তা নিয়ে সরব বিরোধীরা।

এদিকে গোটা ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব মুখে কুলুপ এঁটেছে। দলের ব্লক সভাপতি থেকে জেলা নেতৃত্ব— কেউই এ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। দলের অন্দরের কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসবে, এই আশঙ্কাতেই নীরবতা কি না, উঠছে সেই প্রশ্নও। ফলে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার নেপথ্য কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গিয়েছে।

এলাকায় কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে নানা গুঞ্জন। কেউ বলছেন পঞ্চায়েতে কাজের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিবাদ, কেউ বলছেন আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ঘুঁটি সাজানোর খেলা। দেবীপুরে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নতুন নয়। তবে প্রধানকে দিয়ে এভাবে মুচলেখা লেখানোর ঘটনা নজিরবিহীন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মুচলেখা সত্ত্বেও প্রধান পদে বহাল আমীর হোসেন। কিন্তু প্রশাসন ও তৃণমূলের নীরবতায় রহস্য আরও ঘনীভূত। জোর করে মুচলেখা লেখানোর পিছনে কারা, কী তাঁদের উদ্দেশ্য— উত্তর এখনও অধরা। দেবীপুর পঞ্চায়েতের এই ঘটনা আগামী দিনে নতুন মোড় নেয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *