পিছিয়ে গেল ডিএ বৈঠক; আগামী ১ জুন যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের সঙ্গে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকের দিনক্ষণ পরিবর্তন হলো। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের প্রতিনিধিদের যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী ১ জুন (সোমবার) নবান্নে এই মেগা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ডিএ জট কাটাতে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
আন্দোলনকারীদের অপেক্ষা ও দিন বদলের প্রেক্ষাপট
দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন রাজ্যের সরকারি কর্মীরা। নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আশা করা হয়েছিল, দ্বিতীয় ক্যাবিনেট বৈঠকেই ডিএ এবং সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদিও সেই ক্যাবিনেট মিটিং শেষে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল স্পষ্ট জানান যে, বৈঠকে ডিএ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
এই ঘোষণার পর কিছুটা হতাশা তৈরি হলেও যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের কনভেনর ইতিবাচক বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, “এত বছর অপেক্ষা করলাম। আর কয়েকটা দিন করি।” প্রথমে শোনা গিয়েছিল আগামী সোমবার বা শনিবার বৈঠক হতে পারে, তবে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আগামী ১ জুন বৈঠকের দিন চূড়ান্ত করেছে নবান্ন।
বকেয়া ডিএ-র আইনি ও ঐতিহাসিক জট
রাজ্যে ডিএ-র দাবিতে আন্দোলন কেবল রাজপথেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা গড়িয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত।
-
আদালতের নির্দেশ ও বিগত সরকারের অবস্থান: শীর্ষ আদালত বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও, তৎকালীন রাজ্য সরকার রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে আদালতের কাছে বাড়তি সময় চেয়েছিল।
-
২৫ শতাংশ ফর্মুলা: পরবর্তীতে তৎকালীন সরকারের তরফ থেকে ২০১৬ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত যা বকেয়া, তার ২৫ শতাংশ টাকা দু’টি কিস্তিতে মিটিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়।
-
বঞ্চনার ক্ষোভ: সরকারি কর্মচারীদের একটি বড় অংশ এই টাকা পেলেও, সরকার পোষিত বিভিন্ন সংস্থার কর্মীরা এখনও সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। যার কারণে ডিএ আন্দোলন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক রয়ে গিয়েছে।
১ জুনের বৈঠকের দিকে তাকিয়ে গোটা বাংলা
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের মনে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার হয়েছে। তাঁদের বিশ্বাস, নতুন সরকার তাঁদের দীর্ঘদিনের এই আর্থিক বঞ্চনার অবসান ঘটাবে।
আশাবাদী কর্মচারী মহল: ১ জুনের এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি বসছেন। এখন দেখার, এই বৈঠকের মাধ্যমে ডিএ-র দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার জট শেষ পর্যন্ত খোলে কি না, আর খুললে নতুন সরকার কর্মচারীদের জন্য কী সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করে— সেদিকেই চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী।
