আজকের দিনেভারত

সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলের জের! রাস্তায় আবর্জনা ফেলার ভিডিও ভাইরাল হতেই আত্মঘাতী কলেজ ছাত্র

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, মাপুসা (গোয়া): রাস্তায় আবর্জনা ফেলার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর তীব্র ট্রোল ও মানসিক হেনস্থার শিকার হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন ২৩ বছরের এক কলেজ পড়ুয়া। শনিবার গোয়ার মাপুসা এলাকায় নিজের বাড়ি থেকেই স্যামুয়েল ডি ব্রাগাঙ্কা নামে ওই যুবকের গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, সাইবার বুলিং বা সমাজমাধ্যমে লাগাতার কটাক্ষের জেরে মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

ভিডিও ভাইরাল ও পুলিশি পদক্ষেপ:

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্যামুয়েল স্থানীয় একটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি তাঁর মা ও দুই বোনের সঙ্গে থাকতেন। দিনকয়েক আগে বাড়ির আবর্জনা প্লাস্টিকে মুড়ে রাস্তার ধারে ফেলার সময় কেউ বা কারা তাঁর একটি ভিডিও ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দেয়। ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং নেটপাড়ায় স্যামুয়েলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও কড়া পদক্ষেপের দাবি উঠতে শুরু করে।

ভিডিওটি নজরে আসার পর গোয়া পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে স্যামুয়েলের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে এবং তাঁকে থানায় হাজিরার নোটিশ পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছিলেন স্যামুয়েল। সমন পাওয়ার পর তিনি কর্তৃপক্ষের সামনে হাজিরাও দিয়েছিলেন।

লাগাতার ট্রোল ও মানসিক যন্ত্রণা:

পুলিশি পদক্ষেপের পরেও সোশ্যাল মিডিয়ায় স্যামুয়েলকে নিয়ে ট্রোলিং ও কটূক্তি থামেনি, বরং তা দিন দিন আরও বাড়তে থাকে। হাজার হাজার মানুষের নেতিবাচক মন্তব্য ও আক্রমণের মুখে পড়ে তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন ওই তরুণ।

শনিবার হঠাৎই স্যামুয়েলের ঘর থেকে গুলির শব্দ শুনে ছুটে যান তাঁর পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা। ঘরে ঢুকে তাঁরা দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রয়েছেন স্যামুয়েল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

তদন্তে পুলিশ:

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, পরিবারের একটি বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র দিয়েই স্যামুয়েল নিজের জীবন শেষ করে দিয়েছেন। স্যামুয়েলের পরিবারের সদস্যদের দাবি, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে যেভাবে তাঁকে অপরাধী বানিয়ে ট্রোল করা হচ্ছিল, তাতে তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলেন।

পুলিশ এই ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। ভাইরাল ভিডিও, পুলিশের নোটিশ এবং এই আত্মহত্যার মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র বা প্ররোচনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আরও একবার সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রোলিং সংস্কৃতি এবং তার মারাত্মক মানসিক প্রভাবের দিকটি বড় প্রশ্ন চিহ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *