আজকের দিনেভারতরাজনীতি

দক্ষিণ ভারতে থলপতি-ঝড়

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, চেন্নাই: ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে এক অভাবনীয় এবং ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল তামিলনাড়ু। দীর্ঘ কয়েক দশকের দ্রাবিড় রাজনীতির চেনা সমীকরণ ওলটপালট করে দিয়ে দক্ষিণী সুপারস্টার থলপতি বিজয়ের নবগঠিত দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (TVK) একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল। প্রথমবারের নির্বাচনেই ১০৭টি আসন দখল করে বিজয়ের এই উত্থান দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দেও কম্পন ধরিয়ে দিয়েছে।

নির্বাচনী ফলাফলের চিত্র:

তামিলনাড়ুর মোট ২৩৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে বর্তমান ফলাফল অনুযায়ী চিত্রটি এইরকম:

রাজনৈতিক দল/জোট প্রাপ্ত আসন
তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (TVK) ১০৭
ডিএমকে (DMK) + কংগ্রেস জোট ৭৪
এআইএডিএমকে (AIADMK) জোট ৫২
অন্যান্য (বিজেপি ও নির্দল) ০১

বিজয়ের উত্থান ও রাজনীতির নতুন মেরুকরণ

তামিলনাড়ুর রাজনীতি মানেই ছিল ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র মধ্যে ক্ষমতার হাতবদল। কিন্তু থলপতি বিজয় সেই প্রথা ভেঙে দিলেন। নির্বাচনের আগে থেকেই তাঁর সভায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় সঙ্কেত দিচ্ছিল নতুন কিছুর। মূলত দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং ‘তামিল পরিচিতি’র পাশাপাশি আধুনিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি তরুণ প্রজন্মের মন জয় করে নিয়েছেন।

যদিও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসনের ম্যাজিক ফিগার থেকে মাত্র ১১টি আসন দূরে থেমেছে তাঁর দল, কিন্তু তামিল রাজনীতিতে তিনিই এখন প্রধান চালিকাশক্তি।

কংগ্রেসের হাত বাড়ানোর ইঙ্গিত: কিংমেকার কে?

ফলাফল স্পষ্ট হতেই জাতীয় স্তরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ডিএমকে-র সঙ্গে জোটে থাকলেও ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে টিভিকের সঙ্গে জোট করার আগ্রহ দেখানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, তামিলনাড়ুতে এম.কে. স্ট্যালিনের একাধিপত্য খর্ব হওয়ায় কংগ্রেস এখন বিজয়ের কাঁধে ভর দিয়ে দক্ষিণ ভারতে নিজেদের জমি আরও শক্ত করতে চাইছে। অন্যদিকে, এআইএডিএমকে জোট ৫২টি আসন পেয়ে তৃতীয় স্থানে থাকলেও তারা এখনই তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ স্পষ্ট করেনি।

আগামীর লড়াই: সুপারস্টার থেকে জননেতা

বিজয়ের এই অভাবনীয় জয় কেবল রুপোলি পর্দার জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং তাঁর নিখুঁত বুথ ভিত্তিক সংগঠন এবং তৃণমূল স্তরের কর্মীদের সক্রিয়তার ফল। আজ গণনাকেন্দ্রের বাইরে যখন জয়ের খবর পৌঁছায়, তখন তামিলনাড়ু জুড়ে অকাল দীপাবলি শুরু হয়।

থলপতি বিজয়ের প্রতিক্রিয়া:

জয়লাভের পর বিজয় সমর্থকদের সংযত থাকার বার্তা দিয়ে জানান, “মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। আমরা শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে বিধানসভায় যাব। সরকার গঠন কেবল সময়ের অপেক্ষা।”

বিজেপি এবং অন্যান্য দলগুলি এই নির্বাচনে কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। এখন তামিলনাড়ুর মসনদে বিজয় নিজে বসবেন নাকি কংগ্রেসের সমর্থনে নতুন কোনো কোয়ালিশন সরকার গঠিত হবে, তার দিকেই তাকিয়ে আছে গোটা দেশ। দক্ষিণী এই সুপারস্টার যে আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে চলেছেন, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *