আজকের দিনেভারত

CJP PROTEST CONTROVERSY : “NEET সমাধানের পরেও আন্দোলন কেন? পিছনে কোন রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা ?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

CJP PROTEST CONTROVERSY

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- প্রশ্নপত্র ফাঁসের ৪ দিনের মধ্যে সমাধান, ৪ দিনে পুনরায় পরীক্ষা ও ফল, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং স্থায়ী কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষার ঘোষণা। NEET নিয়ে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের পরেও বিক্ষোভ থামছে না। উল্টে আন্দোলনের মঞ্চ থেকে মহিলা সাংবাদিকদের হেনস্থা, উস্কানিমূলক স্লোগান এবং হিংসার ছবি সামনে আসছে। এর পেছনে বিরোধী শক্তি এবং দেশ-বিরোধী গোষ্ঠীর ইন্ধন আছে কিনা তা নিয়েই এখন জোর চর্চা। (CJP PROTEST CONTROVERSY)

এবছর ৩রা মে NEET পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার পরপরই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। কিন্তু মাত্র ৪ দিনের মধ্যেই ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি নিজেই জালিয়াতি শনাক্ত করে এবং বিষয়টি পুলিশকে জানায়। NTA বাইরের কারও সাহায্য ছাড়াই এই কাজ করে। এর ফলে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়। ঘটনার ১০ দিনের মাথায় সরকার পুরো পরীক্ষাটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৫ই মে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সংবাদ সম্মেলন করে সমস্ত পরীক্ষার্থীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান এবং এই ঘটনার সম্পূর্ণ নৈতিক দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেন। (CJP PROTEST CONTROVERSY) সেদিনই তিনি পুনরায় পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেন এবং ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে তার জন্য সব জাতীয় পরীক্ষা কম্পিউটার-ভিত্তিক ও এনক্রিপ্টেড পদ্ধতিতে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।

এরপর ২১শে জুন পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং ১৬ই জুলাই ফল প্রকাশিত হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে CBI ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। অর্থাৎ জালিয়াতি ধরা পড়া থেকে নতুন ফল প্রকাশ—পুরো কাজটি মাত্র ৪ দিনে শেষ হয়েছে। কাঠামোগত সংস্কারও হয়ে গেছে।

কিন্তু এই সবকিছুর পরেও “Cockroach Movement” নামে যে বিক্ষোভ চলছে তার একমাত্র দাবি হলো শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। যে মন্ত্রী সবচেয়ে দ্রুত সমস্যা সমাধান করেছেন, ক্ষমা চেয়েছেন, নতুন পরীক্ষা ও ফল নিশ্চিত করেছেন, তাকেই পদত্যাগ করতে হবে—এই দাবির পেছনের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

এই আবহেই আন্দোলনের মঞ্চ থেকে বেশ কিছু উদ্বেগজনক ছবি সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, কভারেজ করতে যাওয়া মহিলা সাংবাদিকদের ঘিরে ধরা হচ্ছে, ধাক্কাধাক্কি করা হচ্ছে এবং তাঁদের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে আন্দোলনের নামে সরকার-বিরোধী এবং উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও ব্যারিকেড ভাঙা এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোঁড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, NEET-এর সমস্যার সমাধান হয়ে যাওয়ার পরেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া এবং তার চেহারা এভাবে পাল্টে যাওয়ার পেছনে অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে। বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং দেশ-বিরোধী শক্তিগুলির মদত থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে নেপাল এবং বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের নামে যে ঘটনা ঘটেছে, তার সঙ্গে এই আন্দোলনের ধরনের মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। তাই প্রশ্ন উঠছে, এটি কি সত্যিই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, নাকি সরকার ফেলার অন্য কোনো চেষ্টা?

প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি গুরুতর সমস্যা ছিল এবং সরকার তা দ্রুত সমাধান করেছে। কিন্তু সমাধান হয়ে যাওয়ার পরেও আন্দোলন যদি হিংস্র হয়, সাংবাদিকরা আক্রান্ত হন, তাহলে সেই আন্দোলনের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক নয় কি ? ছাত্রদেরকে সামনে রেখে পিছন থেকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে চাইছে কি না কোনো গোষ্ঠী সেই প্রশ্নও উঠছে বর্তমান পরিস্থিতিতে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *