ক্যানসার মুক্ত বাংলা গড়ার ডাক! কিশোরীদের বিনামূল্যে টিকা দেওয়া শুরু
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা ও বিধাননগর: প্রতিশ্রুতি মতো শনিবার থেকে রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল মহিলাদের জরায়ু মুখের ক্যানসার বা সারভাইকাল ক্যানসার প্রতিরোধের মেগা টিকাকরণ কর্মসূচি। একই সঙ্গে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার খোলনলচে বদলে দিতে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে এসএসকেএম হাসপাতালে ১০০টি অতিরিক্ত বেডের উদ্বোধন, অন্যদিকে ‘রেফার রোগ’ রুখতে বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে কড়া হুঁশিয়ারি— ক্ষমতা হস্তান্তরের মাত্র তিন সপ্তাহের মাথায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে একগুচ্ছ কড়া দাওয়াই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিধাননগরে সারভাইকাল ক্যানসার টিকার সূচনা: লক্ষ্য ৭ লক্ষ কিশোরী
শনিবার সকালে বিধাননগর হাসপাতালে পৌঁছে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় সহায়তায় আজ থেকেই রাজ্যের জেলায় জেলায় এই টিকাকরণ যজ্ঞ শুরু হলো।
-
কারা পাবেন: মূলত ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সি কিশোরীরা সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই বিনামূল্যে প্রতিষেধক পাবেন। এদিন প্রথম দুই কিশোরীর হাতে টিকাকরণের শংসাপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
-
ডোজ ও কেন্দ্র: গোটা রাজ্যে মোট ২৩৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে একযোগে এই টিকাকরণ শুরু হয়েছে। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ৭ লক্ষ ৭২ হাজার ৬৫০ ডোজ ভ্যাকসিন পাঠিয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, ধাপে ধাপে মোট ৮৮০টি কেন্দ্রে এই কর্মসূচি চালানো হবে।
‘রেফার রোগ’ রুখতে কড়া হুঁশিয়ারি: বেসরকারি হাসপাতালে ১৫% বেড ফিক্সড!
সরকারি হাসপাতালগুলির ‘রেফার রোগ’ এবং দালাল চক্র রুখতে কড়া সমন্বয় সূত্র তৈরি করেছে নতুন সরকার। এদিন বেসরকারি হাসপাতালগুলির একাংশকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্য সরকারের থেকে যাঁরা মাত্র ১ টাকায় জমি নিয়েছেন, তাঁদের হাসপাতালের ১৫ শতাংশ বেড সাধারণ মানুষের জন্য তুলে রাখতে হবে। সরকারি হাসপাতালে অতিরিক্ত চাপ হলে, সেখান থেকে রেফার করা রোগীদের ওই বেডগুলিতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতে হবে।”
রেফারের কোনও অভিযোগ বা দালাল চক্রের খবর থাকলে সরাসরি অভিযোগ জানানোর জন্য একটি ২৪ ঘণ্টার লাইভ মনিটরিং কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।
বাংলায় ঢুকছে ২১০০ কোটি, এবার ‘আয়ুষ্মান ভারত’ ও উত্তরবঙ্গে এইমস
দিল্লির সঙ্গে সংঘাতের রাস্তা এড়িয়ে কেন্দ্রের স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলি এবার বাংলায় পুরোপুরি রূপায়িত হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ন্যাশনাল হেলথ মিশন (NHM)-এর অধীনে পশ্চিমবঙ্গ ২১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে, যার মধ্যে ৫২৭ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই এসে গিয়েছে। এছাড়া ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের জন্য এসেছে ৯৭৬ কোটি টাকা ।
আয়ুষ্মান ভারতের আওতা: ১ কোটি ৩৬ লক্ষ পরিবারের প্রায় ৬ কোটিরও বেশি মানুষ। এমনকি পরিযায়ী শ্রমিকরাও দেশের যে কোনও প্রান্তে এই সুবিধা পাবেন বলে জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে ৪৬৭টি জনৌষধি কেন্দ্র এবং ভর্তুকি মূল্যে ওষুধের জন্য ‘অমৃত প্রকল্প’ চালু হচ্ছে। এছাড়া উত্তরবঙ্গে ‘এইমস’ গড়ার জন্য জমি খোঁজার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি ৪টি জেলাতেও দ্রুত মেডিকেল কলেজ স্থাপন
বুধবারে অন্নপূর্ণার টাকা, বাড়ি বাড়ি যাবে টিম
স্বাস্থ্য বিপ্লবের পাশাপাশি রাজ্যের মা-বোনেদের জন্য সামাজিক সুরক্ষার বড় বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনওরকম দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন তিনি। ফর্ম ফিলাপ নিয়ে যাদের সমস্যা হচ্ছে, তাঁদের বিভ্রান্তি দূর করতে এবার সরকারি প্রতিনিধিরাই সরাসরি উপভোক্তাদের ঘরে ঘরে গিয়ে ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন।
