আজকের দিনেতিলোত্তমা

অন্নপূর্ণা যোজনার ১৩ পাতার ফর্ম নিয়ে বিভ্রান্তি, বাড়ি গিয়ে সাহায্যের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- অন্নপূর্ণা যোজনার দীর্ঘ ১৩ পাতার আবেদনপত্র পূরণ নিয়ে রাজ্যের মহিলাদের একাংশের মধ্যে তীব্র বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কীভাবে এই জটিল ফর্ম পূরণ করবেন তা বুঝতে না পেরে সন্দিহান বহু উপভোক্তা। এই পরিস্থিতিতে শনিবার বিধাননগর হাসপাতালে সার্ভাইক্যাল ক্যানসারের টিকাকরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে সরাসরি হস্তক্ষেপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কোনও মহিলাকেই বিচলিত হওয়ার দরকার নেই— সরকারি আধিকারিক ও দলীয় কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সম্পূর্ণ সাহায্য করবেন।

অন্নপূর্ণা যোজনার ১৩ পাতার আবেদনপত্র ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মহিলাদের মধ্যে চাপা উদ্বেগ দেখা যাচ্ছিল। বিশেষ করে গ্রামীণ ও আধা-শহর এলাকার মহিলারা এই দীর্ঘ ফর্মের জটিলতা নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। অনেকেই অভিযোগ করছিলেন, ফর্মে চাওয়া তথ্য ও নথির তালিকা এতটাই বিস্তৃত যে সাধারণ মানুষের পক্ষে একা পূরণ করা প্রায় অসম্ভব। এই বিভ্রান্তি কাটাতেই শনিবার বিধাননগর হাসপাতালে রাজ্যের HPV টিকাকরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করতে এসে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “বিন্দুমাত্র বিচলিত হবেন না। আমাদের লোকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণ করতে সাহায্য করবেন। আমরা চাই প্রকৃত প্রাপকরাই যেন এই যোজনার সাহায্য পান, কোনও দাল বা মধ্যস্বত্বভোগী নয়।” তিনি আরও জোর দিয়ে জানান, “আপনাদের সরকার নিয়ম মেনে সমস্ত কাজ করবে। সংকল্পপত্রের প্রতিটি বাক্য, প্রতিটি শব্দ পূরণ করবে এই সরকার।” উল্লেখ্য, এর আগে নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল, মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবং বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও ফর্ম সরলীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবেই এবার সরাসরি বাড়িতে গিয়ে সহায়তার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। একই মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী দুই কিশোরীর হাতে HPV টিকাকরণের সার্টিফিকেটও তুলে দেন, যা রাজ্যে সার্ভাইক্যাল ক্যানসার প্রতিরোধে একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারি সূত্রে খবর, দ্রুত প্রতিটি ব্লক ও পুরসভা এলাকায় বিশেষ ক্যাম্প করে এবং দরজায় দরজায় গিয়ে ফর্ম পূরণের কাজ শুরু হবে, যাতে কোনও প্রকৃত উপভোক্তা বাদ না পড়েন।

অন্নপূর্ণা যোজনার জটিল আবেদনপত্র নিয়ে তৈরি হওয়া আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি দূর করতে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি শুধু প্রশাসনিক দায়বদ্ধতাই নয়, রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে— সরকার প্রকৃত প্রাপকদের পাশে আছে। একইসঙ্গে HPV টিকাকরণের সূচনা করে নারীস্বাস্থ্য সুরক্ষাতেও সরকারের সদিচ্ছা স্পষ্ট হল। এখন দেখার, মাঠপর্যায়ে এই সহায়তা কত দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *