তিলোত্তমা

বিজয় মিছিলে বুলডোজার নিষিদ্ধ, কড়া হুঁশিয়ারি সিপি অজয় নন্দার

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: রাজ্যে ১৫ বছর পর ক্ষমতার পালাবদল ঘটতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে তিলোত্তমা-সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের নানা জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙচুর এবং হামলার অভিযোগ সামনে আসছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুলিশ। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হলো, উত্তরপ্রদেশ স্টাইলে জেসিবি বা বুলডোজার নিয়ে কোনও মিছিল করা যাবে না।

বুলডোজার মিছিলে নিষেধাজ্ঞা

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউ মার্কেট এলাকায় বিজেপির ঝান্ডা হাতে একদল যুবকের তান্ডব এবং হকারদের অস্থায়ী কাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বুধবার কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা কড়া বার্তা দিয়ে জানান:

  • বিজয় মিছিলে কোনওভাবেই জেসিবি বা বুলডোজার ব্যবহার করা যাবে না।

  • যে সমস্ত মালিকরা এই ধরণের কাজের জন্য জেসিবি ভাড়া দেবেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • যে কোনও ধরণের মিছিল করার জন্য পুলিশের থেকে আগাম অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।

পুলিশি তৎপরতা ও গ্রেপ্তার

শহর ও সংলগ্ন এলাকার শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ কমিশনার জানান যে, এখনও পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনায় ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক মামলা রুজু হয়েছে। জনমানসে আতঙ্ক কাটাতে তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষ কোনও গুজবে কান দেবেন না। যে কোনও সমস্যায় সরাসরি পুলিশের কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করুন, পুলিশ কড়া হাতে ব্যবস্থা নেবে।”

“শান্তি বজায় রাখাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য। জেসিবি নিয়ে তান্ডব বা আইন অমান্য করলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।”অজয় নন্দা, পুলিশ কমিশনার, কলকাতা।

নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশ

বাংলার এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কড়া অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশনও। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্যের মুখ্য সচিব, পুলিশ সুপার এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে পূর্ণ শক্তিতে ব্যবহার করতে হবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ দেড় দশক পর রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে কর্মীদের উচ্ছ্বাস ও উন্মাদনা অনেক ক্ষেত্রেই হিংসার রূপ নিচ্ছে। নিউ মার্কেটের মতো জনবহুল এলাকায় ভাঙচুরের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে, যা রুখতেই এখন পথে নেমেছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *